সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের লুদুরপুর গ্রামে বোনের বিয়ের দাওয়াত নিয়ে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় নিহত নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী ও তার বোন জামাই মুনসুর মিয়া আহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নাজিম উদ্দিন ও মাসুম মিয়া সম্পর্কে চাচাতো ভাই এবং একই বাড়ির বাসিন্দা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নাজিম উদ্দিনের আপন ছোট বোন মরিয়ম আক্তারের বিয়েতে কেন চাচাতো ভাই মাসুম মিয়াসহ তার অন্যান্য ভাই ও স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি তার কারণ জানতে চায়। শুরুতে বিয়ের দাওয়াত নিয়ে নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে চাচাতো ভাই মাসুম মিয়া, মুনজু মিয়া, মুকিত মিয়া, সুবল মিয়া ও হোসাইনের সঙ্গে কথাকাটাকাটি এবং মারামারি হয়। একপর্যায়ে মাসুম মিয়া ও তার ভাইয়েরা মিলে চাচাতো ভাই নাজিম উদ্দিনের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে রক্তাক্ত করে।
পরে, নাজিম উদ্দিনকে বাঁচানোর জন্য তার স্ত্রী ও বোন জামাই মুনসুর মিয়া ঘটনাস্থলে গেলে মাসুম মিয়ার ভাইয়েরা তাদেরকে আহত করে।
এরপরে, গুরুতর আহত অবস্থায় নাজিম উদ্দিনকে চিকিৎসার জন্য জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে নাজিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে মারা গেছেন বলে ডাক্তার জানান।
এর আগে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নাজিম উদ্দিনের ছোট বোন মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়।
নাজিম উদ্দিনের আহত বোন জামাই মুনসুর মিয়া জানান, দীর্ঘদিন যাবত নাজিম উদ্দিন ও মাসুম মিয়ার পরিবারের লোকজনের মধ্যে জায়গাজমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এই জেরে হয়তো নাজিম উদ্দিন ছোট বোনের বিয়েতে চাচাতো ভাই মাসুম মিয়ার পরিবারকে দাওয়াত দেয়নি। বোনের বিয়ের দাওয়াত না পাওয়ার ক্ষোভে নাজিম উদ্দিনকে ‘সুলফি’র আঘাতে হত্যা করে মাসুম মিয়াসহ তার ভাইয়েরা।
জগন্নাথপুর থানার এস আই নুর হোসেন জানান, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও বিয়ের দাওয়াত নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। জড়িতদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।



