Sunday, October 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘দয়া করে হাতটা বাঁধবেন না, আমাদের কাছে আবার আসতে হবে’

সরকারের উদ্দেশে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এসব কথা বলেন

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

ক্ষমতাসীন সরকার সমালোচনার বিরুদ্ধে আইন করতে চায়, কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পর তারাই অন্যায়ের শিকার হয় বলে মন্তব্য করেছেন সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। টিআইবি, ব্র্যাক, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ ১৯টি সংগঠন যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।

সরকারের উদ্দেশে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, “দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারব না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে।”

পৃথিবীতে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়ন করা উচিত।’’

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে মানবজমিন সম্পাদক বলেন, ‌‌‘‘সরকারের সমালোচনা ও সাইবার অপরাধকে আলাদা করে দেখতে হবে। তার মতে, সরকারের সমালোচনা হবেই, গণতান্ত্রিক সমাজে তা স্বাভাবিক। এই দুই বিষয়কে আলাদা করা না গেলে বিপদ থেকে যাবে।’’

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে কোনো ব্যক্তির অপরাধের কারণে সংবাদপত্র বা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ রাখা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নোয়াব সভাপতি। আইন প্রয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতার ফোনেই কাউকে গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’’

প্রস্তাবিত আইনে ‘ভুল তথ্য’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মতিউর রহমান চৌধুরী। তার মতে, কোনো সংবাদ কারও পছন্দ না হলেই সেটিকে ভুল তথ্য বা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত সংবাদ বলে দাবি করা হতে পারে। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা কে নির্ধারণ করবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকদের বিচারের ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, “ভেজাল ওষুধ যারা তৈরি করেন, তাদের ধরার জন্য যে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ব্যবহার করা হয়, সেই আদালতের কাছে আপনি সাংবাদিকের বিচারের ক্ষমতা দিচ্ছেন! এইটা কী করে একটা গণতান্ত্রিক সমাজে চিন্তা করা যেতে পারে?”

প্রস্তাবিত আইন নিয়ে জেলায় জেলায় আলোচনা আয়োজন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আইন প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটিতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করারও দাবি জানান নোয়াব সভাপতি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, অনলাইন এডিটর্স ফোরামের আহ্বায়ক শরিফুজ্জামান পিন্টু এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজসহ অন্যরা।

   

About

Popular Links

x