Monday, October 19, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী আজ

ভক্তরা এ দিন কুমারী বালিকার চরণে ভক্তি ও পূজা নিবেদন করছেন

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ এএম

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আজ মহাঅষ্টমী। মহাঅষ্টমীর মূল আকর্ষণ রামকৃষ্ণ মিশনে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা। কুমারের পবিত্রতায় বিশুদ্ধ নারী শক্তির রূপ কল্পনা করে ভক্তরা দেবীজ্ঞানে এ দিন কুমারী বালিকার চরণে ভক্তি ও পূজা নিবেদন করছেন।

হিন্দু শাস্ত্রানুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ও অবিবাহিত কন্যাশিশুকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়ে থাকে। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কথামৃত অনুযায়ী, শুদ্ধাত্মা কুমারীর মাঝেই ভগবতী আদ্যাশক্তির রূপ সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে প্রকাশিত হয়। মূলত জগতের সকল মাতৃরূপকে উপলব্ধি করা এবং সম্মান প্রদর্শন করাই কুমারী পূজার মূল উদ্দেশ্য।

শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, বয়সের ভিত্তিতে কুমারী কন্যাদের ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়, ১ বছর বয়সে ‘সন্ধ্যা’, ২ বছরে ‘সরস্বতী’, ৩ বছরে ‘ত্রিধামূর্তি’, ৪ বছরে ‘কলিকা’, ৫ বছরে ‘সুভাগা’, ৬ বছরে ‘উমা’, ৭ বছরে ‘মালিনী’, ৮ বছরে ‘কুব্জিকা’, ৯ বছরে ‘কালসন্দর্ভা’, ১০ বছরে ‘অপরাজিতা’, ১১ বছরে ‘রুদ্রাণী’, ১২ বছরে ‘ভৈরবী’, ১৩ বছরে ‘মহালক্ষ্মী’, ১৪ বছরে ‘পীঠনায়িকা’, ১৫ বছরে ‘ক্ষেত্রজ্ঞা’ এবং ১৬ বছরে ‘অন্নদা’।

মহাঅষ্টমীর স্নান শেষে নতুন বস্ত্র পরিধান করিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয় নির্বাচিত কুমারীকে। পরবর্তীতে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপাচারে দেবী হিসেবে চরণে অঞ্জলি দেন পূজারি ও ভক্তরা। এ সময় চারদিকে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং দেবী স্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ প্রাঙ্গণ।

কুমারী পূজার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে পুরোহিতরা জানান, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের এই যুগে আধুনিক বিশ্বকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে মাতৃজাতির প্রতি যোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা অপরিহার্য। বিশ্বে নারীকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পত্নী বা সহধর্মিণী হিসেবে দেখা হলেও তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ মহিমাময় রূপ হলো তাঁর মাতৃরূপ। এই তিথিতে কুমারী পূজার মাধ্যমে মূলত সমগ্র জগতের মাতৃজাতি ও আদ্যাশক্তিকে প্রণাম নিবেদন করা হয়।

আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং পরদিন বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের। সনাতন পঞ্জিকা অনুযায়ী দশমীর দিন বিকেল ৩টার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে রাজধানী পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়ে বুড়িগঙ্গার সদরঘাটস্থ ওয়াইজ ঘাটে গিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হবে।

   

About

Popular Links

x