সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্ত গ্রামের শামছুদ্দিন সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামী ফজলুল হক আমিনী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৭টায় সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক নূসরত জাহানের খাস কামরায় তিনি এ জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন এবং রাত ৯.৩০টার দিকে শেষ হয়।
আদালতের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, ফজলুল হক আমিনী তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন যে, ওয়াহেদুজ্জামান শামীম নাস্তিক ছিল। তাকে মারার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। এক্সিডেন্টালি হয়ে গেছে। আপাতত আইনের দৃষ্টিতে তিনি অপরাধী হলেও আল্লাহর দৃষ্টিতে তিনি কি, সেটা আল্লাই ভালো জানেন। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডে কারা কারা জড়িত তাদের নাম প্রকাশ করেন।
সাতক্ষীরা আদালতের পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে ফজলুল হক আমিনীকে রবিবার রাত ৯টার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক আল আমিন জানান, শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ফজলুল হক আমিনীকে তার চাচাত ভাই কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের বেসরকারি বীমা কর্মী বসির আহম্মেদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বসির আহম্মেদ জানান, ফজলুল হক আমিনী তার আপন চাচাত ভাই। তার জন্ম ফরিদপুর গ্রামে। ২৮ বছর আগে তার চাচা ক্বারী রুহুল আমিন স্বপরিবারে দেবহাটার দক্ষিণ পারুলিয়ায় বসবাস শুরু করেন। ফজলুল হক ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন ওয়াহেদুজ্জামান ওরফে শামীমের হত্যাকাণ্ডের পর তিনি তার বাড়িতে আসেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে তিনি তার ছেলে ও স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে আদালতে আত্মসমর্পণের ব্যাপারে তার সঙ্গে পরামর্শ করেন। স্থানীয় বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে বলেন। একপর্যায়ে বাথরুম থেকে ফেরার পর চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেই। এরইমধ্যে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসআরবি সদস্যরা তার বাড়িতে ঢুকে পড়েন। জিজ্ঞাসা করতেই তিনি আমিনীর অবস্থান নিশ্চিত করেন। পৌনে ১১টার দিকে এসআরবি তাকে নিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে ফজলুল হক আমিনী, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম, ৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি কামরুলগাজীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনের বিরুদ্ধে গত ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করেন। ১৫ অক্টোবর রাতে পুলিশ মোক্তার হোসেন খান ও ১৬ অক্টোবর সকালে নিজ বাড়ি নাজিরের ঘের থেকে আসাদুল্লাহ মোল্ল্যা নামের দুই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।



ভিন্ন সিম ও ফোন ব্যবহার করছিলেন আমিনী, যা যা বললো পুলিশ