চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগকে ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থা এখনও কাটেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, পরীক্ষার পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে সব ধরনের কার্যক্রম। এ অবস্থা নিরসনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চালু এবং সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য পর্যায়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে জরুরি সুপারিশ পাঠাতে বলা হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসন ও একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে ইউজিসির সদস্য পর্যায়ে তদন্ত বা পর্যালোচনা কমিটি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ বা প্রস্তাব জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
এর আগে, ১৬ অক্টোবর চুয়েটের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি বা পরামর্শক দল গঠনের সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
ভার্চ্যুয়াল ওই সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ সিন্ডিকেটের ১৫ সদস্যের মধ্যে ছয়জন অংশ নেন। চুয়েটের কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি সভায় যোগ দেননি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক প্রতিনিধিও এতে যোগ দেননি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা হয়। ২৭ জুলাই দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় তিনি পদ হারান। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের স্থলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু হয়। প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচিতে যুক্ত হন। ফলে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।
দীর্ঘ অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ছয়টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। নতুন পরীক্ষাসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে ক্যাম্পাস আরও ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনের মধ্যে গত ১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে যান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে প্রশাসনিক ভবনে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। ১৩ অক্টোবর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তাকে নিরাপত্তার সঙ্গে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনে। পরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।



