অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ পরিচালনার ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে সৃষ্ট তীব্র সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সোমবার থেকে তার পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে।
এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে কয়েকশ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার এই ব্যক্তিগত বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে বিএনপি কিংবা সরকার যাতে কোনোভাবেই বিব্রত না হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনকল্যাণমূলক কাজগুলো যাতে আড়ালে পড়ে না যায়, সেটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই তিনি স্বেচ্ছায় মন্ত্রিত্ব ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার বিকেলে। ওই দিন নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন। ভিডিওগুলোর একটিতে তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা অন্য একজনকে সরাসরি অস্ত্র হাতে সাঁড়াশি অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও ধরা পড়ে। একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হয়ে এভাবে সরাসরি নিজে অস্ত্র হাতে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
উল্লেখ্য, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ফলে বর্তমানে সরকারের মন্ত্রিসভার মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়াল ৫০ জনে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রীর সংখ্যা ২৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।



