Friday, October 23, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সৌদিতে নিহত সাহেদের মরদেহ বগুড়ায় দাফন

গ্রামের বাড়িতে কফিন ঘিরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত সাহেদ আহমেদ আশিকের (৩৫) মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে জেলার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামে সাহেদের মরদেহ পৌঁছায়।

এ সময় মরদেহের সঙ্গে স্ত্রী কাকলী বেগম ও তাদের দুই সন্তান কাউসার (১১) ও আবদুল্লাহ (৬) ছিলেন।

মরদেহ আসার পর সেখানে হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আত্মীয়-স্বজনের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষ মরদেহ দেখার জন্য ভিড় করেন। কফিন ঘিরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

বাদ আসর সরকারি মাদলা চাঁচাইতারা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে দাফন করা হয় সাহেদকে। মর্মান্তিক মৃত্যুতে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে পাড়ি জমানো এই রেমিট্যান্সযোদ্ধা ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথেই সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান।

সাহেদের খালাতো ভাই মাসুম রানা ও স্বজনরা জানান, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বিকেল ২টার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন সাহেদ।

সৌদি সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্যদের সঙ্গে সাহেদও নিহত হন। সাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। দেশটিতে তার কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল। বাংলাদেশে এক মাসের ছুটি কাটিয়ে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি।

সাহেদের বাবা রফিকুল ইসলামও সৌদি আরবে থাকেন। ঘটনার সময় তার মা শাহেরা বেগম ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করলেও তিনি চারদিন আগে গ্রামে ফিরেছেন।

এর আগে, শুক্রবার সকালে সাহেদের মরদেহ আনতে ঢাকায় যান তার স্ত্রী কাকলী বেগম ও দুই সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে এখন দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন কাকলী।

   

About

Popular Links

x