Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

'পীরের' নির্দেশে একদিন পরে ঈদ উদযাপন, বিরোধিতা করায় ইমামকে কান ধরে উঠবোস

স্বচক্ষে শাওয়াল মাসের চাঁদ না দেখায় অনুসারীদের একদিন পর ঈদ উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তথাকথিত এই 'পীর'

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৯, ১০:৪৩ পিএম

বগুড়ার শাজাহানপুরের পারতেখুর গ্রামে 'পীরের' নির্দেশে একদিন পর ঈদুল ফিতর উদযাপনের বিরোধিতা করায় খতিব মাওলানা আবদুর রশিদ নামক এক মসজিদের ইমামকে কান ধরে উঠবোস করিয়েছেন পীরের অনুসারীরা। শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

এসময় ওই ইমামকে হুমকি প্রদান করে বিভিন্ন এলাকায় শক্তি প্রদান করে মহড়া দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) সহকারি অধ্যাপক শাহ সুফী হযরত মাওলানা ডা. মো. আব্দুল মান্নান পীর কেবলা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। তাদের এসব আক্রমনাত্মক কর্মকাণ্ডে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমাম আব্দুর রশিদ সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী মসজিদ থেকে ৫ জুন ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন বলেই তার উপর চড়াও হয় তথাকথিত 'পীরের' অনুসারীরা। এসময় ওই ইমামকে 'পীরের' অনুসারীরা তওবা করতে বলেন বলেও জানান সন্ত্রস্ত গ্রামবাসীরা।

জানা যায়, সরকারি ঘোষণার প্রেক্ষিতে মসজিদ থেকে বুধবার (৫ জুন) ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দিলে তার উপর অসন্তুষ্ট হন ডা. মান্নান এবং তার অনুসারীরা। এর উপর দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে একদিন পর ঈদ পালন নিয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে মহল থেকে সমালোচনা করা হলে আরো খিপ্ত হয়ে ওঠেন তারা। এরপর ২ দিন নিরব থাকলেও শনিবার সন্ধ্যায় ডা. মান্নানের নেতৃত্বে তার অর্ধ শতাধিক ভক্ত গাড়ি ও মোটর সাইকেল নিয়ে পারতেখুর গ্রামে এসে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেন। এসময় ডা. মান্নানের অনুসারিরা তাদের সমালোচনাকারীদের তালিকা তৈরি করে তাদের দেখে নেওয়া হবে বলে হুমকি দেন।

পরবর্তীতে ৫ জুন ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দেয়া ইমাম মাওলানা আব্দুর রশিদকে ডেকে এনে তাকে হেনস্তা করেন 'পীর' ও তার অনুসারীরা।

এ প্রসঙ্গে শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, শজিমেকের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান নিজেকে পৈতৃক সূত্রে পীর দাবি করেন। তিনি দীর্ঘদিন পারতেখুর ঈদগাহ্ মাঠে ইমামতি করেন। সরকার থেকে ৫ জুন বুধবার পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ঘোষণা দেয়া হয়। সে মোতাবেক ডা. মান্নানের ঈদের নামাজে ইমামতি করার থাকলেও তিনি আসেননি। নিজের পরিবর্তে আরেকজনকে পাঠিয়েছিলেন ডা. মান্নান।

স্থানীয়রা জানান, স্বচক্ষে শাওয়ালের চাঁদ দেখতে না পাওয়ায় ‘পীর’ ডা. মান্নান তার অনুসারিদের ৫ জুন বুধবার রোজা রাখার নির্দেশ দেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার তোয়াক্কা না করে গত বৃহস্পতিবার (৬ জুন) তার ইমামমতিতে ফতেহিয়া ওয়ায়সিসা দরবার শরিফ প্রাঙ্গনে ঈদের নামাজ আদায় করেন তিন শতাধিক গ্রামবাসি। এতে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলেও বিষয়টি ধর্মীয় এবং স্পর্শকাতর হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করেননি।

এদিকে ভুক্তভোগী মাওলানা আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, পীর ডা. আব্দুল মান্নান তাকে জনগণের সামনে অপদস্থ করেন। ৫ জুন বুধবার ঈদের নামাজের ঘোষণা দেয়ায় তাকে কান ধরে তওবা ও উঠাবসা করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা এসে দু:খ প্রকাশ করায় তাকে এ শাস্তি ভোগ করতে হয়নি। এসময় তথাকথিত এই পীরের কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণ অনৈসলামিক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। 

আশেকপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম ঘটনা প্রসঙ্গে জানান, নির্দিষ্ট দিনে ঈদ উদযাপন ও নামাজে সহযোগিতা করায় শনিবার সন্ধ্যায় পীর ও তার বাহিনীর সদস্যরা তাকেও হুমকি দিয়েছেন। পীর ডা. মান্নান পাবনা, নাটোর, সিংড়া, শেরপুর ও নন্দীগ্রামের অর্ধশতাধিক ভক্তকে নিয়ে গ্রামে ঢুকে মহড়া দিয়েছেন। তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নন্দীগ্রামে আত্মীয় বাড়িতে আছেন। কিন্তু হুমকি দেয়ায় তিনি গ্রামে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।

এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানার জন্য রবিবার অভিযুক্ত ডা. মান্নানকে মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


About

Popular Links