Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

'আত্মহত্যার' আগে মেয়েটি লিখেছিল, 'আল্লাহ রায়হানের বিচার করবে'

‘মানুষের চরিত্র একবার চলে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। সত্যি বলছি, আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো না।'

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ০৬:২০ পিএম

‘মানুষের চরিত্র একবার চলে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। সত্যি বলছি, আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো না। তাই সবাইকে ছেড়ে যাচ্ছি। আম্মু আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি। আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ হলো রায়হান।’

মৃত্যুর আগে খাতার একটি পৃষ্ঠায় এ কথাগুলোই লিখে গিয়েছিল সুমাইয়া খাতুন নীলুফা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ যশোর সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রাম থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করেছে। 

নীলুফা বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাণিজ্য শাখার ছাত্রী ছিল।

খাতায় নীলুফা আরও লেখে, 'আল্লাহ রায়হানের বিচার করবে। রায়হান কোরআন মাথায় নিয়ে মিথ্যা বলেছে। জানি ও সাজা পাবে, কিন্তু আমি ওটা দেখতে পারবো না। কারণ আমি সবার চোখে খারাপ হয়ে বাঁচতে পারবো না।' 

মেয়েটির পরিবারের দাবি, একই এলাকার বিল্লাল হোসেনের কলেজপড়ুয়া ছেলে রায়হানের সঙ্গে নীলুফার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরে নীলুফা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে বিয়ের কথা বলায় রায়হান তাকে প্রত্যাখ্যান করলে নিলুফা ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

নিহতের খালা তাসলিমা বেগম বলেন, আজ সকালে ঘরের মধ্যে নীলুফাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এরপর পুলিশকে খবর দিলে তারা লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কী কারণে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তাসলিমা বলেন, পাঁচবাড়িয়া এলাকার রায়হান নামের এক ছেলের সঙ্গে নিলুফার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি মেয়েটি তাকে বিয়ের কথা বললে সে প্রত্যাখ্যান করে। এ কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে। মৃত্যুর আগে সে একটি চিঠি লিখে গেছে।' 

যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সালেহীন কবীর জানান, গলায় ফাঁসের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সে অন্তঃস্বত্ত্বা ছিল কি না তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পরে জানা যাবে।

যশোর উপশহর ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মেয়েটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্যে হাসপাতালে আনি। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল কি না- তা ডাক্তাররাই বলতেই পারবেন।'

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

About

Popular Links