Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শাহবাগ থেকে ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার ২০ দিন পর তাকে গ্রেফতার করা হলো

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ০৩:৫৩ পিএম

রাজধানীর শাহবাগ থেকে গ্রেফতার হয়েছেন সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন।  শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান ঢাকা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, "বিকাল ৪ টার দিকে তাকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানায় আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে"।

এর আগে গত ২৭ মে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এর ২০ দিন পর গ্রেফতার করা হলো তাকে। এতোদিন তিনি পলাতক ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সোনাগাজী থানায় অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে নিজে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন রাফির মা শিরিন আক্তার।

এর প্রেক্ষিতে গ্রেফতার হন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। পরবর্তীতে মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুসরাতকে থানায় ডেকে এনে তার জবানবন্দি নেন মোয়াজ্জেম এবং জবানবন্দি নেওয়ার নাম করে বিভিন্ন আপত্তিকর প্রশ্ন করেন। এছাড়াও নুসরাতের জবানবন্দির একটি ভিডিও ধারণ করেন তিনি। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন তিনি।

ভিডিওটিতে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের শুধু গলার আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায় এবং তাকে বলতে শোনা যায় যে যৌন হয়রানির অভিযোগটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এসময় তিনি নুসরাতকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও আসলে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত ১০ এপ্রিল অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় গাফিলতির অভিযোগে তাকে ওসি পদ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইদুল হক ব্যরিস্টার সুমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি দেখে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে চাপ প্রয়োগের পরও নুসরাত সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতকে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ করে সিরাজের টাকা দিয়ে পোষা অনুসারীরা। এতে নুসরাতের শরীরে ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নুসরাত।

About

Popular Links