Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টাঙ্গাইলের রেল সেতুতে লোহার নাটের পরিবর্তে বাঁশ-কাঠ!

‘আমরা অনেক সময় দেখি বিভিন্ন জায়গায় নাট চুরি হয়ে যায়। যেহেতু সব সময় ট্রেন চলাচল করে তাই জরুরি ভিত্তিতে তা বাঁশ দিয়ে আটকানো হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাঁশের ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ না’

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৯, ০৩:৫২ পিএম

টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব  এলাকা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত রেললাইনের বেশ কিছু সেতু ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। রেলসেতুতে দেখা গেছে লোহার নাটের পরিবর্তে বাঁশের গোঁজ ও কাঠের ব্যবহার। এছাড়াও সেতুর কাঠের তৈরি স্লিপার নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে সেতুগুলো। যে কোন সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। 

রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব এলাকা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত রেললাইনে ছোট-বড়  প্রায় ১৩২টি সেতু রয়েছে। যা ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করা হয়। এরপর আর সেতুতে কোন সংস্কার কাজ হয়নি।

জানা যায়, ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব রেললাইনের টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার

জোকারচর, সল্লা, হাতিয়া, আনালিয়াবাড়ী রেলসেতুর সাথে রেললাইনের আটকানো ক্লিপ বেশ কিছু স্থানে নেই। কিন্তু সেখানে লোহার বোল্টু বা নাট দিয়ে আটকানোর কথা থাকলেও এর পরির্বতে বাঁশের গোঁজ বা কাঠ দিয়ে আটকানো হয়েছে। আবার অনেকস্থানে লোহার নাট বা বাঁশের গোঁজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে লোহার নাটগুলো নাড়াচাড়া বা হাত দিয়ে টেনে তোলা যাচ্ছে। ফলে সেতুর একপাশে লোহার পাতগুলো খুলে রয়েছে। 

অন্যদিকে পুংলী রেল সেতুতে গিয়ে দেখা যায়, যে পিলারের উপর ব্রিজটি দাড়িয়ে আছে তার মূল নাটগুলো নেই। তাছাড়াও রয়েছে বাঁশ-কাঠের ব্যবহার। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। ইতিমধ্যে বিগত ২০১৭ সালে ২০ আগস্ট পুংলী রেলসেতুর প্রবেশপথ ধসে পড়ে। এতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অল্পের জন্য উত্তরবঙ্গ থেকে আসা ঢাকাগামী ট্রেন দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায়। এরপর ওই সেতুর সংস্কার কাজ শেষ হলে ৩৮ ঘন্টা পর পুনরায় রেল চলাচল শুরু হয়। 

স্থানীয় মুন্নাফ আলী বলেন, “টাঙ্গাইলের অংশে ক্রমেই রেল দুর্ঘটনা বাড়ছে। কয়েকবছরের মধ্যে মির্জাপুর, পুংলী, বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্বপার ও বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব ব্রিজের উপর ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এই ৯টি বগি যদি নদীতে পড়ে যেত তাহলে হাজারো লোকের প্রাণহানি ঘটতো। আর বর্তমানে ব্রিজগুলোর যে অবস্থা, দুর্ঘটনা ঘটনা আশঙ্কাই বেশি’।

স্থানীয় মাসুদ রানা বলেন, ‘যে কোন ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার ঘটার পর তদন্ত শুরু করে কর্তৃপক্ষ। আর আগে থেকেই যদি কর্তৃপক্ষ দেখভাল করতো তাহলে এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যেত। কোন ক্ষয়ক্ষতিও হতো না, মানুষের প্রাণহানিও হতো না। 

জয়দেবপুর বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী নাজিব কায়সার বলেন, “আমরা অনেক সময় দেখি বিভিন্ন জায়গায় নাট চুরি হয়ে যায়। আমাদের স্টকেও অনেক সময় নাট থাকে না, যেহেতু সব সময় ট্রেন চলাচল করে। তাই জানমাল রক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে নাটের জায়গায় বাঁশ দিয়ে আটকানো হয়। পরবর্তীতে নাটগুলো এনে ঠিক করে দেয়া হয়।” তবে তাৎক্ষণিক ভাবে বাঁশের ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ না বলেও জানান তিনি।



About

Popular Links