Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খুলনায় থানা হাজতে গণধর্ষণে ওসিসহ ২ জন ক্লোজড হলেও, বহাল বাকি ৩ জন

শুক্রবার (২ আগস্ট) খুলনার জিআরপি থানার ওসি উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৪৩ এএম

খুলনার জিআরপি (রেলওয়ে) থানা হাজতে তিন সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দিন ২ আগস্ট রাতে দায়িত্ব অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুল হককে ক্লোজড করা হয়েছে।

ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বুধবার (৭ আগস্ট) তাদের খুলনা জিআরপি থানা থেকে ক্লোজ করে পাকশি জেলা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তাদেরকে ২ জনকে ক্লোজ করা হয়েছে। আর ওই ঘটনার রাতে থানায় থাকা অন্য ৩ জনকে সনাক্ত হয়েছে। তবে, তাদের অবহেলাজনিত বিষয়টি এখনও সুস্পষ্ট নয়। তাই তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ফিরোজ আহমেদ আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা খুলনা জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি উছমান গণি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একজন নারীর তোলা ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন। তদন্তকালে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের কারণে পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই রাতে থানায় দায়িত্বে থাকা বাকি তিন পুলিশ সদস্য হচ্ছে এসআই গৌতম কুমার পাল ও কনস্টেবল মিরাজ ও হারুন। তাদের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ফিরোজ আহমেদ বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই নারী কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া এবিষয়ে আদালতের কোনও নির্দেশনাও তাদের কাছে নেই। তবে, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তদন্ত কমিটি কথা বলবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, রবিবার (২ আগস্ট) যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃবধূকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে। পরে গভীর রাতে জিআরপি থানা হাজতে ওসি উছমান গণি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন শনিবার তাকে ৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় প্রেরণ করা হয়।

৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানিকালে জিআরপি থানায় গণধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন তিনি। এরপর আদালতের নিদের্শে সোমবার তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এঘটনায় পাকশি রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।


আরও পড়ুন: খুলনায় থানা হাজতে গণধর্ষণের ঘটনায় ওসি, এসআই ক্লোজড



আরও পড়ুন: খুলনায় ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ



About

Popular Links