Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৫৭ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোতে পারাপার

এলাকায় কেউ যদি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে তাকে সাঁকো দিয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কঠিন। আর আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে পৌঁছানোর কোনো উপায়ও নেই।

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৪:১৪ পিএম

রাঙ্গামাটি সদরের মাঝেরবস্তি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে দাবি জানিয়েও একটি সেতুর ব্যবস্থা করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে তাদের।

কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর নিচে নেমে গেলে পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এ বাসিন্দাদের চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু প্রতি বর্ষামৌসুমে চার মাসের জন্য স্থানীয়দের আবার নতুন করে সাঁকো তৈরি করতে হয়। এ সাঁকো দিয়ে শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। আর প্রতি বছর সাঁকোর পেছনে খরচ হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

স্থানীয়রা জানান, জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন হলেও তাদের এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে না। এলাকায় কেউ যদি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে তাকে সাঁকো দিয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কঠিন। আর আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে পৌঁছানোর কোনো উপায়ও নেই।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার এ আধুনিক যুগে এসেও মাঝেরবস্তির পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় নদীর ওপর আজও  কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কখনও নৌকা আবার কখনও বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন এলাকার মানুষ। প্রয়োজনের তাগিদে যাচ্ছেন তবলছড়ি বাজার, রিজার্ভ বাজার ও বনরূপা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দা অলি আহমেদ বলেন, “যুগের পর যুগ এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে এলাকার মানুষ কষ্ট করে পারাপার হচ্ছেন। এখানে একটি সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দাবি থাকলেও কারও যেন মাথা ব্যথা নেই। প্রতিবছর এ বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে দিতে হচ্ছে প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা। প্রতি বছর বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করতে সময় লাগার কারণে ভাড়ায় চালিত নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।”

আরেক বাসিন্দা বাবুল শুক্লা দাশ বলেন, “এলাকায় রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা গর্ভবতীদের নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। তাই এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি আমাদের দীর্ঘ দিনের।”

About

Popular Links