Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাবিতে শতাধিক দুর্লভ বৃক্ষরোপণ করলো ‘তরুপল্লব’

গাছপালা কেটে ফেলা কোনো সমাধান নয়। চেষ্টা করতে হবে গাছ না কেটে উন্নয়ন কিভাবে করা যায়

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৫০ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্লভ প্রজাতির শতাধিক গাছের চারা লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘তরুপল্লব’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তরুপল্লব এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম দুপুর ১টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন সড়কের পাশে একটি রুদ্রপলাশ গাছের চারা রোপন করার মাধ্যমে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন

এসময় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও তরুপল্লব এর পক্ষে কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, পাখি বিশেষজ্ঞ ড. ইনাম আল হক, সহানা চৌধুরী, লারলা আহমেদ ও ব্যাংকের সাতজন বোর্ড মেম্বারসহ তেইশ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রাশেদা ইয়াসমিন শিল্পী, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, অধ্যপক ড. নাজমুল আলম, অধ্যাপক ড. মোহা. তালিম হোসেন , অধ্যাপক ড. নুহু আলম ও অধ্যাপক ড. আবদুল হালিম প্রমুখ।

উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রতিবছর সহস্রাধিক বৃক্ষরোপণ করে আরো সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলবো। তবে এটাও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে ক্যাম্পাসে এমন অনেক গাছ আছে যেসব গাছ স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর। সেসব গাছের বিষয়েও আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

ফারজানা ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি জায়গা আমরা সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে চিহ্নিত করেছি। প্রয়োজন হলে সেসব সংরক্ষিত বনভূমিতেও আমরা বৃক্ষরোপণ করবো। আমরা যদি ক্যাম্পাসের সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখি প্রকৃতি আমাদের প্রতি সদয় হবে।”

এসময় উপস্থিত তরুপল্লবের সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, “আমি শুনেছি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি আবাসিক হল নির্মাণ করা হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার জন্য অবশ্যই আবাসিক হল প্রয়োজন আছে। পাশাপাশি প্রকৃতিকে রক্ষা করার বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে নজর রাখতে হবে।”

সেলিনা হোসেন আরও বলেন, “ক্যাম্পাসে যদি হল নির্মাণের জন্য বিকল্প জায়গা থাকে তাহলে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করতো তারা যেন গভীরভাবে বিবেচনা করে যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।”

সাধারণ সম্পাদক ও নিসর্গকর্মী মোকারম হোসেন বলেন, “উন্নয়ন সবসময়ই পরিবেশের প্রতিপক্ষ। যখনই কোনো উন্নয়ন হবে তবে পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। তবে গাছপালা কেটে ফেলা কোনো সমাধান নয়। চেষ্টা করতে হবে গাছ না কেটে উন্নয়ন কিভাবে করা যায়। গাছের সঙ্গে অনেক প্রাণ জড়িয়ে থাকে। সবকিছু মিলিয়ে একটা বাস্তুসংস্থান গড়ে ওঠে। ফলে ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। গাছ কেটে ফেললে পরিবেশের এই ভারসাম্য নষ্ট হয়। আমরা হয়তো ক্ষতিটা স্বচক্ষে দেখতে পাই না।”

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে নাগেশ্বর, স্বর্ণচাপা, উদাল, কনকচাঁপা, লালসোনাইল, জ্যাকারান্ডা, জংলিবাদাম, ট্যাবেবুইয়া, নাগলিঙ্গম, অশোক, সিলভারওক, মাধবী, মালতী, কইনার, পাখিফুল, সোনাঝুরিলতা, আমলকি, হরিতকি, বহেরাসহ ৪৪টি দুর্লভ প্রজাতির শতাধিক গাছের চারা রোপণ করা হয়।

About

Popular Links