Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ক্লাসে গান গাইতে না পারায় শিক্ষার্থীকে ৩শ' বার কানধরে উঠবস!

এর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ঘন্টাব্যাপী টয়লেটে আটকে রাখা এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের অমানবিকভাবে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছিল

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:১৯ পিএম

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় শিক্ষকের নির্দেশে শ্রেণীকক্ষে গান গাইতে না পারায় ৫ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে ৩শ' বার কান ধরে উঠবস করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার দুপুরে বড়াইগ্রাম উপজেলার রামাগাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম।

জানা যায়, বুধবার দুপুরের দিকে স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক দীপেন্দ্রনাথ সরকার ক্লাস চলাকালীন সময়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে গান পরিবেশন করতে বলেন। এতে ওই শিক্ষার্থী জানায়, সে জাতীয় সঙ্গীত ছাড়া অন্য কোনো গান জানেনা। তবে, শিক্ষক দীপেন্দ্রনাথ জানান যে জাতীয় সঙ্গীত বাদে অন্য গান গাইতে হবে। সেটি না করতে পারায় জোড়া বেত নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে মারতে উদ্ধত হন তিনি। এতে ওই শিক্ষার্থী ভয়ে শ্রেণিকক্ষের এক কোনায় গিয়ে তাকে বের দিয়ে না মারার অনুরোধ জানায়। এর প্রেক্ষিতেকানধরে উঠবস করতে বলেন ওই শিক্ষক এবং ভুক্তভোগীকে ৩০০ বার কান ধরে উঠবোস করান তিনি।

বাড়ি ফিরে মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম ও আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই শিক্ষার্থী। পরে সে তার মাকে সব খুলে বলে। প্রসঙ্গত, ভুক্তভোগীর মা নাজমা বেগম ওই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে গিয়ে তিনি এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক দীপেন্দ্রনাথ তার সাথেও দুর্ব্যবহার করেন।

ওই স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এর আগেও দীপেন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ঘন্টাব্যাপী টয়লেটে আটকে রাখা এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের অমানবিকভাবে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছিল।

নাজমা বেগমও একই কথা জানান। তিনি বলেন, "প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সাথে অমানবিক আচরণ করে থাকেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। বার বার আমি এবং স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে সতর্ক করলেও তা কর্ণপাত করেননি তিনি। বুধবারের ঘটনাটির মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় উপজেলা সহকারী শিক্ষক কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।"

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সবিধানের ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও অজুহাত দেখিয়ে কাউকে যন্ত্রণাদায়ক, নিষ্ঠুর কিংবা ও অমানুষিক সাজা দেওয়া যাবে না। এছাড়াও কারো সাথে লাঞ্ছনাকর ব্যবহার কিংবা কাউকে অনুরূপ শাস্তি দেওয়া আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। 

এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক দীপেন্দ্রনাথ সরকার জানান, "রাফি নিজেই কান ধরে উঠবস করতে চেয়েছিল। " তবে, এর বাইরে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।"

About

Popular Links