Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

লালমণিরহাটে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার দুই

মন্দিরের ভেতরে থাকা লক্ষ্মী প্রতিমার মুখমণ্ডল, গণেশ ও বাঘের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৪৭ পিএম

জেলার আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের কিসামত বড়াইবাড়ী শ্রীশ্রী রাধা বল্লভ সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের প্রতিমা ভাঙার অভিযোগে পচা মিয়া (২২) ও আব্দুল হাকিম (২৮) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আটক পচা মিয়া আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের আদর্শবাজার এলাকার শমসের আলীর ছেলে ও আদিতমারী এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হাকিম। 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পচা মিয়া ও বুধবার দুপুরে আব্দুল হাকিমকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ করার অভিযোগে দন্ডবিধির ২৯৫ ধারায় একটি মামলা করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদিতমারীর ওসি মো. সাইফুল ইসলাম। আদিতমারী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও লালমণিরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রাণী রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এবিষয়ে পুলিশি তদন্তের আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মামলার বাদী অমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘‘আমি রাতে বাড়ীতেই ছিলাম। প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি মন্দিরের ভেতরে থাকা লক্ষ্মী প্রতিমার মুখমণ্ডল, গণেশ ও বাঘের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানানো হয়। পরে দুইজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আমাদের নিরাপত্তার বিষয়ে অভয় দিয়ে গেছেন।’’

আদিতমারী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লক্ষী কান্ত রায় বলেন, ‘‘আমরা প্রশাসনের সার্বক্ষণিক সহায়তা পাচ্ছি। এধরনের ঘটনা যেন আর কোথাও না ঘটে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।’’

আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক অমল চন্দ্র বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে সেটি আমলে নিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার অধিকতর তদন্ত চলছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠী এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।’’

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটির তদন্ত চলছে। এছাড়া জেলার প্রত্যেকটি মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’’ 

About

Popular Links