Friday, June 14, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আবরার হত্যার সঠিক বিচার চান আসামি সকালের বাবা

'টেলিভিশনে সংবাদ দেখে জানতে পারি আমার ছেলে সকাল, আবরার হত্যায় জড়িত'

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:০৯ পিএম

নিজের ছেলে জড়িত থাকলেও চাঞ্চল্যকর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দাবি করেছেন মামলার ৫ নম্বর আসামি ইফতি মোশাররফ সকালের (২১) বাবা ফকির মোশাররফ হোসেন।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাজবাড়ী জেলার পৌরসভা ১নং ওয়ার্ডের ধুঞ্চি ২৮ কলোনী গ্রামে নিজের বাড়িতে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার সময় তিনি এই দাবি জানান।

ফকির মোশাররফ হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "টেলিভিশনে সংবাদ দেখে জানতে পারি ছেলে সকাল আবরার হত্যায় জড়িত। কিন্তু কোনো ভাবেই এটি বিশ্বাস করতে পারি নাই। গত কোরবানির ঈদের পর সকাল ক্যাম্পাসে ফিরে যায়। এরপর আর বাড়িতে আসেনি। রাজবাড়ীতে থাকাকালীন তার মধ্যে উচ্ছৃঙ্খল কিছু দেখিনি। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন তো দূরের কথা, তার কোনো আড্ডার অভ্যাসই ছিল না। সব সময় পড়াশুনা নিয়ে থাকতো। গত ৩ মাস আগে সকাল জানায় ক্যাম্পাসে সে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। তবে আমি নিজেও আবরার হত্যার সঠিক বিচার চাই।"

সকালের পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ’ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর ভর্তি হন ঢাকার নটরডেম কলেজে। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন বুয়েটে। সকাল দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়। ছোট ভাই রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষার্থী।


আরও পড়ুন : আবরার হত্যাকাণ্ডে ছেলে জড়িত বিশ্বাসই করতে পারছেন না রাসেলের বাবা


রাজবাড়ী জেলায় থাকতে কোনো ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না সকাল। বুয়েটে ভর্তির পর ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পরেন তিনি। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ বুয়েট শাখায় উপ-সমাজসেবা সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি।

সকালের প্রতিবেশিরা জানান, সকাল বাড়িতে থাকাকালীন সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। বিতর্ক, গনিত অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার মতো কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলো। এসবে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়ে বেশকিছু পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। কিন্তু আবরার হত্যার সঙ্গে সকালের জড়িত থাকার কথা শুনে সবাই হতবাক।

এদিকে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এরশাদ দাবি করেন, "ইফতি মোশাররফ সকাল ছাত্রশিবির করতো বলে জানা গেছে। তার বাবাও বিএনপির রাজনীতি করেন।" 

রাজবাড়ী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আব্দুর রব বিশ্বাস জানান, "বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ডে সকালের জড়িত থাকার খবর জানার পরও বিশ্বাস হচ্ছিল না। কারণ এলাকায় যখন সে ছিল তখন ভদ্র ছেলে হিসেবে  তাকে জানতাম।"

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে। ওইদিন রাত তিনটার দিকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একাধিক ভিডিও ফুটেজও পাওয়া যায়। আবরারকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ৭ অক্টোবর রাজধানীর লালবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

About

Popular Links