Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ রুটে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ,দুর্ঘটনার আশংকা

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৮, ১০:৩৬ পিএম

ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ রুটের লঞ্চগুলো আকারে ছোট ও পুরাতন লক্কর ঝক্কর হওয়ায় তা যাত্রীদের চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

লঞ্চগুলো প্রায়ই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলে। চালানো হয় অদক্ষ চালক দিয়ে। ইঞ্জিন পুরাতন বিধায় প্রায়ই নদীর মাঝে হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। নদীর ঢেউয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কোন রকমে এমনভাবে চলে যেন সামান্য বাতাসেই উল্টে যাবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ লঞ্চের হেড লাইট নেই। আর যেগুলোর হেড লাইট আছে তাও মিটিমিটি করে কোন রকমে জ্বলে। বাতি ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে রাতের বেলা লঞ্চ চলাচল করে। এ কারনে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। কখনও বালুবাহী বাল্কহেড বা কখনও অন্যকোন জলযানের সাথে সংঘর্ষে পতিত হয়। এমনকি অনেক সময় লঞ্চ থেকে নদীতে  ছিটকেও  পড়ে যায় যাত্রীরা। এ সকল  দুর্ঘটনায় প্রায়ই যাত্রীরা আহত হচ্ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সড়কপথে নারায়ণগঞ্জ যেতে এখন বেশি সময় লাগে। কারন, মুন্সীগন্জ-নারায়ণগঞ্জ সড়ক খানাখন্দে ভরা, বেহাল দশা। আর যানজটের কারনে অতিরিক্ত সময় লাগে। অন্যদিকে, মুন্সীগন্জ-নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ রুটে আগের চেয়ে নির্ধারিত সময় কমানো হয়েছে। আগে যে লঞ্চ যেতে ৫০ মিনিট সময় বেধে দেয়া ছিল তা কমিয়ে ৩৫ মিনিট করা হয়েছে। তাই যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে যাওয়ার ইচ্ছায় জীবন হাতে নিয়ে লঞ্চে চড়ে বসে। ইদানিং সড়কপথের দুর্ভোগ এড়ানোর জন্য যাত্রীরা লঞ্চরুটকেই পছন্দ করছে। কিন্তু এখানেও ভোগান্তির শেষ নেই।

অভিযোগ আছে লঞ্চের স্টাফরা প্রায়ই যাত্রীদের সাথে খারাপ আচরন করে। ইচ্ছা করে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি সময়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। তবে, এসব ব্যাপারে যাত্রীদের অভিযোগ শোনার কেউ নেই।

এই রুটের নিয়মিত যাত্রীরা বলেন, "৩৫ মিনিটে গন্তব্যে যাবার কথা থাকলেও ৪০ মিনিটের বেশি সময় নেয়। অদক্ষ চালকের কারনে ঘাটে লঞ্চ ভিড়াতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় লাগে। এমভি খাজা ট্রান্সপোর্ট ও দারাশিকো লঞ্চের নির্দিষ্ট সময় ৩০ মিনিট হলেও গন্তব্যে যেতে ৩৫ মিনিটের বেশি সময় নেয়।"

বেসরকারি চাকরিজীবী মিথুন বলেন, "লঞ্চের ইঞ্জিনগুলো কমপক্ষে ২৫ বছর আগের। তাই এগুলোর অবস্হা খারাপ। নদীর মাঝখানে বন্ধ হয়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছাতে পারে না। স্টাফদের ব্যবহারও বেশ আপত্তিকর। একটি লঞ্চেরও ফিটনেস নেই। এগুলো এখনও কিভাবে চলছে? এগুলো দেখার কি কেউ নেই?"

যাত্রীরা এসব লঞ্চ বাতিল করে নতুন লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্হা করার দাবী তোলেন।

যাত্রী সুমন বলেন, "এই রুটের পুরাতন লঞ্চ বাতিল করে দ্রুত গতির লঞ্চ বা স্পীডবোট সার্ভিসের ব্যবস্হা করা দরকার।"

এসব অভিযোগের ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্য দীল মোঃ কোম্পানি বলেন, "গত ২০/২৫ বছরে নতুন কোন লঞ্চের রুট পারমিট দেয়নি। ইঞ্জিনতো পুরাতন হবেই। তাছাড়া, লঞ্চ ব্যবসায় তেমন লাভ নেই। তাই নতুন করে কেউ এ ব্যবসায় আসতে চান না। পুরাতন মালিকরা কোন রকমে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।"

নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি সময়ে গন্তব্যে পৌঁছার ব্যাপারে তিনি বলেন, "অতিরিক্ত সময় নিলে নারায়ণগঞ্জ ঘাটে লঞ্চকে জরিমানা করা হয়। তবে, মুন্সীগঞ্জের ঘাটে জরিমানা করা হয় না। ইঞ্জিনের দুর্বলতার কারনে কোন কোন লঞ্চ বেশি সময় নেয়।" 

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সূরাইয়া জাহান বলেন, "এই রুটে লঞ্চ যেন ঠিকমত চলে সেজন্য সব সময় আমরা তদারকির চেষ্টা করি। অনিয়ম ধরা পড়লে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী জরিমানা বা শাস্তির আদেশ দেয়া হয়। ঈদের মৌসুমে লঞ্চঘাটে সব সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। কিভাবে আরো বেশি তদারকি করা যায় সে চেষ্টা করা হবে।"


About

Popular Links