Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের জন্য ভয়ঙ্কর দিন অপেক্ষা করছে

"আমরা ধৈর্য্য সহকারে মোকাবেলা করছি বলেই এটা ভাববেন না আমাদের কোনও সক্ষমতা নাই"

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:২০ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেছেন, "পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা চাঁদাবাজি করছেন, খুন করছেন, রক্তপাত করছেন তাদের জন্য ভয়ংকর দিন অপেক্ষা করছে। কোনও ভাবেই তারা রেহাই পাবে না। চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। যারা করাচ্ছেন তারাও বিচারের মুখোমুখি হবে। যে কোনও মূল্যে পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনাই মূল চ্যালেঞ্জ।"

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের আয়োজনে ও রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট সম্মেলন কক্ষে তিন জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

আজকের সভায় স্বরাষ্টমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করছি পার্বত্য তিন জেলা অশান্ত হয়ে উঠছে। পার্বত্য মন্ত্রীসহ একদিন বসে সিদ্ধান্ত নিই, কি করা যায়। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম পার্বত্যাঞ্চলে গিয়ে সব স্তরের প্রতিনিধিদের সাথে বসবো। সমস্যা ও দুর্বলতাগুলো খুজে বের করবো। 

তিনি বলেন, আমরা বুধবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর সাথে বৈঠক করেছি এবং আজকে (বৃহস্পতিবার) জনপ্রতিনিধিদের কথা শুনেছি। সবকিছু শুনে আমি আতকে উঠলাম। তাদের বক্তব্য মতে, হঠাৎ করে পার্বত্যাঞ্চলের রক্তপাত বেড়ে গেছে। এ রক্তপাত এতই নৃশংস হচ্ছে যে, কাউকে যদি হত্যা করা হয় তার হয়ে কেউ থানায় যেতে পারছে না, পরবর্তী টার্গেট হওয়ার ভয়ে। স্বাক্ষী দিতেও যাচ্ছে না অস্ত্রের ভয়ে। এর থেকেও আরো ভয়াবহ হচ্ছে, সাইবার ক্রাইমও বেড়ে গেছে এখানে। আমি অবাক হই, এখানে স্কুল করতে দিচ্ছে না, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করতে দিচ্ছে না। কার স্বার্থে? মুষ্টিমেয় কয়েকজনের স্বার্থে এ অঞ্চল অন্ধকারে থাকবে এটা কারোর কাম্য নয়। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আমি জানিয়ে রাখতে চাই, কেউ যদি মনে করেন ঘরে বসে বসে অস্ত্রের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলাকে অচল করে রাখার স্বপ্ন দেখবেন, সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থাকবে, কখনও সফল হবে না। আমরা ধৈর্য্য সহকারে মোকাবেলা করছি বলেই এটা ভাববেন না আমাদের কোনও সক্ষমতা নাই। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, আমরা সব ঘটনা জেনে গেলাম। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা চাইবো, যাতে করে এ এলাকার শান্তির ফয়সালা চলে আসে, এ এলাকার জনগণ যাতে শান্তির সুবাতাস পেতে পারে।"

সভায় পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুরের সভাপতিত্বে রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, পুলিশের আইজপি মো: জাবেদ পাটোয়ারী, পার্বত্য সচিব মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব সুদত্ত চাকমা, স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহম্মেদ, চট্টগ্রাম বিভাগের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো: শাফিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।





About

Popular Links