Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রকে হত্যা

এ ব্যাপারে নিহতের পিতা শফিকুল ইসলাম বলেন, একজন আসামী গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। তবে এই হত্যাকান্ড একজনের পক্ষে আদৌ ঘটানো সম্ভব কিনা আমার সন্দেহ রয়েছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে আরো যারা জড়িত রয়েছে আমি তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৮, ০৫:০১ পিএম

টাঙ্গাইলের সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের নবম শ্রেনীর ছাত্র মোহাইমিনুল ইসলাম হামিম (১৬) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের ১০ দিনের মাথায় পুলিশ চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। 

এ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া মূল আসামী ইমন শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নওরিন মাহবুবের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে আদালতের বিচারক তা লিপিবদ্ধ করেন। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সে এই হত্যকান্ড ঘটিয়েছে বলে আদালতকে জানায় ইমন। 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুর পাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একইসাথে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুড়ি, নিহত হামিমের মোবাইল সেট ও সিম কার্ড পুলিশ উদ্ধার করে। ইমন উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের পাছ ইরতা গ্রামের শামছুল হকের ছেলে।

নাগরপুর থানার ওসি মাইন উদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাগরপুর থানার ওসি মাইন উদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, টাঙ্গাইল শহরের পূর্ব আদালত পাড়ার শফিকুল ইসলামের ছেলে টাঙ্গাইল সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের নবম শ্রেনীর ছাত্র মোহাইমিনুল ইসলাম হামিমের সাথে পাশের বাসার একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওই মেয়েকে হত্যাকারি ইমনও ভালোবাসতো। কিন্তু ইমন ওই মেয়েকে কখনও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেনি। সে হামিমের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে হামিমকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার ফন্দি আটতে থাকে। সে পরিকল্পনা করতে থাকে কিভাবে কখন হামিমকে হত্যা করা যায়। সেই  সুযোগ তার কাছে চলে আসে। এর আগে ইমন হামিমের সাথে দেখা করে বলে তোমার ভালোবাসার মানুষটি নাগরপুর যাবে। তোমার সাথে দেখা করিয়ে দিব। তোমরা নাগরপুর ব্রীজসহ বিভিন্নস্থানে ঘুরতে পারবে। অবশেষে ১৬ জুলাই নাগরপুরের পাচইরতা গ্রামে আসার জন্য হামিমকে ইমন ফোন করে। ফোন পেয়ে হামিম কোচিং করার কথা বলে নাগরপুরে চলে আসে। তখন তাকে বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপন করতে থাকে ইমন। বিকেলে হামিমের মা তার মোবাইলে ফোন করে কোথায় আছে তা জানতে চায়। হামিম ঘারিন্দা রয়েছে বলে এবং প্রাইভেট পড়া শেষ করে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরবে বলে তার মাকে জানায়। 

এদিকে ওইদিন রাত আটটা বেজে গেলে হামিম টাঙ্গাইল চলে যাওয়ার জন্য ইমনকে তাগাদা দিতে থাকে। ইমন তার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার বাড়ি থেকে একটি ছুড়ি এনে কোমড়ের পেছনে নিয়ে হামিমকে পাছ ইরতা গ্রামের মহিসগাড়া ধান ক্ষেতের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে ইমন পেছন দিক থেকে হামিমের গলায় ছুড়ি দিয়ে ঘাড়ে পরপর দুটি আঘাত করে। পরে গলায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। হামিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে শার্ট প্যান্ট দিয়ে হাত-পা বেধে ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে যায়। পরদিন খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় হামিমের পিতা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে নাগরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। 

এ ব্যাপারে নিহতের পিতা শফিকুল ইসলাম বলেন, একজন আসামী গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। তবে এই হত্যাকান্ড একজনের পক্ষে আদৌ ঘটানো সম্ভব কিনা আমার সন্দেহ রয়েছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে আরো যারা জড়িত রয়েছে আমি তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। 

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডে জড়িত মূল আসামীকে অল্প সময়ের মধ্যে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। আসামী আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।  

উল্লেখ্য, ১৬ জুলাই সোমবার হামিম তাদের টাঙ্গাইল শহরের আদালত পাড়ার বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ঘরে ফেরেনি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ইরতা এলাকা থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই স্কুল ছাত্রকে গলা কেটে এবং কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান হয়। নিহত মোহায়মিনুল ইসলাম হামিদ (১৬) টাঙ্গাইল শহরের আদালত পাড়ার সফিকুল ইসলামের ছেলে। সে টাঙ্গাইল সৃষ্টি একাডেমি স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা বাদি হয়ে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। 

About

Popular Links