Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নুসরাত হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার, নিরাপত্তা শঙ্কায় পরিবার

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদের আদালতে রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫৪ এএম

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে (রাফি) নির্মম ও নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে। 

জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদের আদালতে রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

আলোচিত রায়কে ঘিরে জেলা শহর আদালত এলাকা ও সোনাগাজী উপজেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নুসরাতের পরিবার ও ফেনীবাসী আশা করেন এ মামলায় ন্যায়বিচার পাবে তারা । সকল আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এড. হাফেজ আহাম্মদ ঢাকা ট্রিবিউন’কে বলেন, “নুসরাতের রায়ের দিকে গোটা দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে। প্রত্যেক আসামির সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

এদিকে , নিরাপত্তা শঙ্কায় বুধবার রাত থেকে নুসরাতদের বাড়ি পাহারা জোরদার করা হয়েছে। প্রহরায় নিয়োজিত আগের তিনজন পুলিশ সদস্য সঙ্গে আরও নয়জন পুলিশ সদস্য বাড়ানো হয়। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত লোকজন রেজিস্টার খাতায় সই করে ওই বাড়িতে ঢোকার অনুমতি পাচ্ছেন। গত ৭ এপ্রিল থেকে নুসরাতদের বাড়ি পাহারা বসানো হয় ।

অন্যদিকে, রায় ঘোষণাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে জেলা সদর ও সোনাগাজীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশের নিরাপত্তাচৌকি বসানো হয়েছে। এছাড়া র‌্যাব সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের টহল রয়েছে । রায় ঘোষণাকে ঘিরে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এরকম কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার খোন্দকার মো. নুরুন্নবী।


আরও পড়ুন: নুসরাত হত্যা: নির্দেশদাতা সিরাজ, আগুন দেয় ৪ জন, গ্রেফতার ১৩


এসপি খোন্দকার মো. নুরুন্নবী ঢাকা ট্রিবিউন’কে বলেন, “রায় ঘিরে আদালত চত্বরে আমরা সেখানে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। সরকারি গাড়ি ছাড়া কোনো যানবাহন আদালত প্রাঙ্গণে ঢুকতে পারবে না।”

নুসরাত হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয় ৮ এপ্রিল। নুসরাতের ভাই নোমান এই মামলার বাদী। ১০ এপ্রিল থানা থেকে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মোট ৩৩টি কার্য দিবসে ১৬জন আসামিকে অভিযুক্ত করে এই মামলার চার্জশিট দেয় পিবিআই। পরবর্তীতে ২০ জুন চার্জ গঠন ও ২৭ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। চার্জশিটে মোট ৯১জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ১৬ আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসারছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।


আরও পড়ুন: নুসরাত হত্যা: আইনজীবীদের জেরার মুখেও সাক্ষী দুই চিকিৎসক অনড়


প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে এর আগে ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় অধ্যক্ষের ভাগ্নি পপি। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।

About

Popular Links