Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রিক্রুটিং এজেন্সির চাপে সৌদি গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন আবিরন

মারা যাওয়ার ৫১ দিন পর আবিরনের মৃত্যুর খবর জানতে পারে তার পরিবার

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৪২ পিএম

রিক্রুটিং এজেন্সির চাপ ও হুমকির মুখে বাধ্য হয়ে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে খুলনার আবিরন বেগমের। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিবার তার লাশ গ্রহণ করে বলে জানিয়েছেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরীফুল হাসান।

আবিরনের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোদি আরব যাওয়ার পর গত ২ বছর ধরে নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আবিরন। গত ১৭ জুলাই মৃত্যু হয় তার।  সৌদি থেকে দেয়া সনদে আবিরনের মৃত্যুর কারণ লেখা আছে হত্যা। তবে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি ফাতেমা এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস (আরএল-১৩২১) পরিবারকে জানিয়েছিল যে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। এমনকি আবিরনের মৃত্যুর খবরটাও তার পরিবারকে দেয়নি সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কর্মকর্তারা। মারা যাওয়ার ৫১ দিন পরে মৃত্যুর খবর জানতে পারে তার পরিবার।

বৃহস্পতিবার ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগিতায় দূতাবাস ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে আবিরনের লাশ দেশে ফিরেছে।

বিমানবন্দরে লাশ গ্রহণের পর কাঁদতে কাঁদতে তার ছোট বোন রেশমা জানান, "শুরুতে সৌদি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে তা বাতিল করেন আবিরন। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সির চাপ ও হুমকির মুখে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তিনি সৌদি যেতে বাধ্য হন। সেখানে গিয়ে নিয়োগকর্তার নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সমস্যার কথা নিয়ে এজেন্সি ও দালালের কাছে গেলে তারা বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় আমাদেরকে। তারা বলেন, এমন ব্যবস্থা নেব যে আবিরন আর কথাও বলবে না কোনো দিন।"

আবিরনের পরিবারের সদস্যদের দাবি, তার নিয়োগকর্তা নির্মম নির্যাতন চালিয়ে তাকে মেরে ফেলেছেন। এমনকি দুই বছরে কোনো বেতনও তাকে দেয়া হয়নি।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরীফুল হাসান বলেন, "আবিরনের পরিবার আমাদের জানায় যে নিয়োগকর্তা তাকে হত্যা করেছে। কিন্তু লাশটি তারা আনতে পারছিলেন না। আমরা যেন সহায়তা করি। তিনি যে নিয়োগকর্তার বাড়িতে ছিলেন সেখানে শুরু থেকেই নির্যাতিত হচ্ছিলেন। বারবার বলার পরেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।"

তিনি জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১১৯ নারীসহ ২,৯০০ প্রবাসীর লাশ দেশে ফিরেছে।

About

Popular Links