Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চাকরি ফিরে পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের সন্তান

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাতে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে চাকরি ফেরত দেওয়ার এ প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ০২:১৬ পিএম

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের সন্তান নুর ইসলামকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহমুদুল আলম।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাতে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে নুর ইসলাম ও তার মা নুরুন নাহারকে চাকরি ফেরত দেওয়ার এই প্রতিশ্রুতি দেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম নিজেই। 

নুর ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসক অফিসেই তাকে পুনরায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এরপর জেলা প্রশাসক বীর ইসমাইল হোসেনের কবর জিয়ারত করেন।এসময় বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুর আগে ইসমাইল হোসেন তার ভাইয়ের ছেলেকে দিয়ে স্বজনদের উদ্দেশে দুই পৃষ্ঠার একটি চিঠি লেখেন। চিঠি লেখা শেষ হলে তিনি চিঠিটি হুইপ ইকবালুর রহিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তার মৃত্যুর পর যেন তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা না হয়, সেবিষয়েও পরিবারকে নির্দেশনা দেন।

চিঠিতে তিনি বলেন, “প্রশাসন কোন লাভ ও লোভের আশায় ঠুনকো কারণ দেখিয়ে আমার ছেলেকে চাকরি ও বাস্তুচ্যুত করল? ছেলে চাকরিচ্যুত হওয়ায় আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এই অবস্থায় যদি আমার মৃত্যু হয়, তাহলে আমাকে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা না হয়। কারণ এসি ল্যান্ড, ইউএনও, এডিসি, ডিসি যারা আমার ছেলেকে চাকরিচ্যুত করেছে, পেটে লাথি মেরেছে, তাদের সালাম-স্যালুট আমার শেষযাত্রার কফিনে আমি চাই না।”


আরও পড়ুন - বুকভরা অভিমান, রাষ্ট্রীয় সম্মান না নিয়েই চিরবিদায় মুক্তিযোদ্ধার


প্রসঙ্গত, ইসমাইল হোসেনের ছেলে নুর ইসলাম ভূমি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের গাড়ি চালক ছিলেন। তাকে চাকরিচ্যুত ও সরকারি কোয়ার্টার থেকে বাস্তুচ্যুত করা হয়।

গত ২১ অক্টোবর শ্বাসকষ্ট দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন ইসমাইল হোসেন। ২৩ অক্টোবর সকাল ১১টা ১০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

ইসমাইল হোসেনের মৃত্যুর পর উপজেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট মহসীন উদ্দিনের নেতৃত্বে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা তাকে গার্ড অব অনার দিতে যান। এতে ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরা তাতে বাধা দিলে পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়।

এই ঘটনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরিফকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন ডিসি।


About

Popular Links