Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সৌদি আরব থেকে দু’দিনে ফিরলেন ৩৭৩ কর্মী

দুইবছর আগে সৌদি আরবে যাওয়া ভোলার ফুয়াদ হোসেন বলেন, কাজের বৈধ অনুমোদন (আকামা) থাকার পরেও তাকে কেন গ্রেফতার করা হলো সেবিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে কথা বললে তাকে বলা হয়, ‘আপনারা এভাবে আসেন কেন? যেভাবে আসছেন সেভাবেই সমাধান করেন’

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:১১ পিএম

সৌদি আরব থেকে শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত গত দু্ইদিজন নের ব্যবধানে দেশে ফিরেছেন আরও ৩৭৩ জন কর্মী। এরমধ্যে শুক্রবার রাতে ফেরেন ২০০ জন ও শনিবার রাতে ১৭৩ জন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে কাজ করা ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, এনিয়ে চলতিবছর প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরব থেকে ফেরত এলো। দেশে ফেরা এসব কর্মীদের বরাবরের মতো প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় বিমানবন্দরে জরুরি খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর সহায়তা প্রদান করেছে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচি।

শনিবার রাতে ফেরত আসাদের মধ্যে ছিলেন একই পরিবারের দুই ভাই নড়াইলের নয়ন ও শুক্কুর মোল্লা। এরমধ্যে নয়ন চারবছর আগে সৌদি গিয়েছিলেন রং মিস্ত্রির কাজ নিয়ে। মাত্র দুইমাস আগে ছোটভাই শুক্কুর মোল্লাকে একই কাজে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি কিন্তু দু’জনকেই শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয়েছে।

নয়নের অভিযোগ, ছোটভাই বাজার করতে বের হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন। এখবর শুনে ছুটে যায় তিনি কিন্তু কোনও কথা না শুনে সৌদি পুলিশ তাদের দুইভাইকেই দেশে পাঠিয়ে দেয়।

ভোলার ফুয়াদ হোসেন দু‘বছর আগে ছয় লাখ টাকা ব্যয় করে ‘ফ্রি ভিসার’ নামে গিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে। তিনি বলেন, কাজের বৈধ অনুমোদন (আকামা) থাকার পরেও তাকে কেন গ্রেফতার করা হলো তিনি বুঝতে পারছেন না। এবিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে কথা বললে তাকে দূতাবাস থেকে বলা হয়, “আপনারা এভাবে আসেন কেন? যেভাবে আসছেন সেভাবেই সমাধান করেন।”


আরও পড়ুন: সৌদি থেকে ‘মিথ্যা অভিযোগে’ ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের


সৌদি আরবে ১০ বছর ধরে ব্যবসা করা কিশোরগঞ্জের শোয়েব হোসেন বলেন, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৮০ হাজার রিয়ালের সমপরিমাণ পণ্যসামগ্রী ছিলো। তার আকামার মেয়াদও ছিল দুই মাস, কিন্তু কোন কিছুই তাকে রক্ষা করতে পারেনি। সৌদিতে সব সম্পদ ফেলে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হলো তাকেও।

স্বপ্ন ভঙ্গের এমন নানা সব ঘটনা প্রতিদিনই বিমানবন্দরে শুনতে হচ্ছে জানিয়ে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, সাধারণত ফ্রি ভিসার নামে গিয়ে এক নিয়োগকর্তার বদলে আরেক জায়গায় কাজ করতে যাওয়ার প্রবণতা চলছে অনেকদিন ধরে। এভাবে কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে অনেকেই ফেরত আসতো।

তবে এবার অনেকেই বলছেন, তাদের আকামা থাকার পরেও ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই অনেককে ফিরতে হচ্ছে, যারা খরচের টাকার কিছুই তুলতে পারেননি, যোগ করেন তিনি।


আরও পড়ুন: অভিযোগ নিয়ে সৌদি থেকে ফিরলেন আরও ১৬০ বাংলাদেশি



About

Popular Links