Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

'শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যাকারী জংগিরা দেশেই আছে'

মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ জায়েদুল আলম পিপিএম বলেন, "যেহেতু এ হত্যাকাণ্ড জংগি সদস্যরা ঘটিয়েছে তাই তারা দেশত্যাগ করবে বলে মনে হয় না। তারা পুলিশের 'ট্রেস' এ আছে। শিগগির তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। আমরা দ্রুতই একটা রেজাল্ট দিতে পারব।"

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৮, ০৬:১৭ এএম

লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুর হত্যাকারীরা দেশেই আছে। যেহেতু তারা জংগি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর সদস্য তাই তারা দেশত্যাগ করেনি বলে ধারনা পুলিশের। 

শাহজাহান বাচ্চুর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী আব্দুর রহমান পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। কিন্তু, এক মাস ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও বাকি তিন আসামী এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত এই তিন আসামির নাম পরিচয়ও প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে, শিগগির এই তিন আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ জায়েদুল আলম পিপিএম।

তিনি বলেন, "যেহেতু এ হত্যাকাণ্ড জংগি সদস্যরা ঘটিয়েছে তাই তারা দেশত্যাগ করবে বলে মনে হয় না। তারা পুলিশের 'ট্রেস' এ আছে। শিগগির তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। আমরা দ্রুতই একটা রেজাল্ট দিতে পারব।"

গত ১১ জুন নিজ গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার কাকালদী এলাকায় চার জংগি সদস্য মোটরসাইকেল যোগে এসে শাহজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি মুন্সিগঞ্জের মাটিতে জংগিদের 'অন গ্রাউণ্ড' প্রথম আক্রমণ।

 গত ২৭ জুন পুলিশের সাথে হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হবার পর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, শাহজাহান বাচ্চুর হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন আসামীদের গ্রেফতার করতে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ, এন্টি টেররিজিম ইউনিট,  পুলিশ হেডকোয়াটার্স ইন্টিলিজেন্স উইং, বগুড়া জেলা পুলিশ এবং গাজীপুর জেলা পুলিশ টিমের সহায়তায় গাজীপুর জেলায় অপারেশন চালায়। সেখান থেকে আব্দুর রহমানকে আটক করা হয়। পুলিশ তার কাছ থেকে ২টি ৭.৬৫ পিস্তল, ২১ রাউন্ড গুলি ও চারটি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে শাহাজাহান বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে জানায়। সে ঢাকা বিভাগের জেএমবির সামরিক কমান্ডার ছিল। হত্যাকাণ্ডের তিন মাস আগে গাড়ি চালক পরিচয় দিয়ে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার খাসমহল বালুচর গ্রামের প্রবাসী ইয়াকুব আলীর বাসা ভাড়া নিয়ে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে।

সরেজমিনে সিরাজদিখান থানার খাসমহল বালুচর গ্রামে গিয়ে প্রবাসী ইয়াকুব আলীর বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্হায় পাওয়া যায়। স্হানীয়রা জানান, বাড়ির মালিক ইয়াকুব আলী কয়েক বছর ধরে বিদেশ থাকেন। তাই বাড়িটি ভাড়া দিয়ে ইয়াকুব আলীর স্ত্রী তার বাপের বাড়ি গিয়ে থাকতেন। এখানে ভাড়াটিয়া কারা ছিল তা কেউ বলতে পারেনা। এরইমধ্যে বাড়িতে পুলিশ আসার কারনে স্হানীয়রা জানতে পারে যে, এই বাড়িতে যারা ভাড়া থাকত তারা জংগি। আর বাড়িটির চতুর্দিক টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা। ইয়াকুব আলীর বাড়ির উল্টো পাশে কোন বাড়ি নেই। আছে ডোবা আর খোলা স্থান। এ কারনে, তিন মাস ধরে ভাড়া থাকলেও স্হানীয়রা ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে কিছুই জানত না।

এ ব্যাপারে বালুচর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ মোসলেম উদ্দিন বলেন, "ইয়াকুব আলীর বাড়িতে কারা ভাড়া থাকত আমরা তা জানিনা। পুলিশ আসার পরে আমরা জানতে পারি ঐ বাড়িতে জংগিরা ভাড়া থাকত।"

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, "খাসমহল বালুচরের প্রবাসী ইয়াকুব আলীর বাড়িতে বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের আসামীরা ভাড়া থাকত। বাড়িটি হয়ত তালাবদ্ধ থাকতে পারে তবে পুলিশের হেফাজতে নেই।"

এদিকে, শাহজাহান বাচ্চুর হত্যাকাণ্ডের মামলাটি এখন মুন্সীগন্জের ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইউনুচ আলী জানান, "বিষয়টি 'সেনসিটিভ' তাই কিছু বলা যাবেনা। তদন্তের স্বার্থে আসামীদের নাম পরিচয়ও প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে, শিগগির তাদের গ্রেফতার করা হবে।"

উল্লেখ্য, শাহজাহান বাচ্চু বিশাকা প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ‘আমাদের বিক্রমপুর’ নামে একটি অনিয়মিত সাপ্তাহিক পত্রিকারও তিনি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া, মুক্তচিন্তার লেখক বাচ্চু বিভিন্ন ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি করতেন। ছাত্র জীবনে শাহজাহান বাচ্চু ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। পরে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং ২০১২-২০১৪ সময়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা সিপিবি এর সাধারন সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি পার্টির কোন পদে ছিলেন না।



About

Popular Links