Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এমপি’র গাড়িতে তেল না দেওয়ায় ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ

পরিবহন শ্রমিকদের একটি অংশ চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের সামনে এলোপাথাড়িভাবে যানবাহন রেখে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৫ পিএম

ধর্মঘট চলাকালে সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র্র সেনকে বহনকারী গাড়িতে জ্বালানি না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের চৌধুরী ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোলপাম্পের ধর্মঘটরত শ্রমিকরা। এ ঘটনার জেরে সোমবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ওই পেট্রোলপাম্পটির বেচা-কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন রমেশ চন্দ্র সেনের অনুসারী মোটর শ্রমিকেরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সফর শেষে রবিবার বিকেলে ঢাকা যাওয়ার জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরের পথে রওনা দেন রমেশ চন্দ্র সেন। পথে তাকে বহনকারী দু'টি গাড়ি চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার জন্য গেলে সেখানকার কর্মীরা ধর্মঘট চলছে জানিয়ে জ্বালানী বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান। সে সময় একটি গাড়িতে বসেছিলেন রমেশ চন্দ্র সেন। 

ফিরে গিয়ে অন্য একটি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নিয়ে সৈয়দপুরের দিকে রওনা দেন সংসদ সদস্য। 

এ ঘটনার জেরে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরিবহন শ্রমিকদের একটি অংশ চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের সামনে এলোপাথাড়িভাবে যানবাহন রেখে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

এ বিষয়ে পরিবহন শ্রমিক শাহজাহান বলেন, ‘‘রমেশ চন্দ্র সেন আমাদের গার্জিয়ান, এই এলাকার এমপি, মন্ত্রীও ছিলেন। তাকে অসম্মান করায় আমরা কোনো গাড়িকে এই পাম্প থেকে তেল নিতে দিচ্ছি না, দেবো না।’’


 আরও পড়ুন- ঠাকুরগাঁওয়ে এমপির গাড়ি ফিরিয়ে দিলেন পেট্রোলপাম্পের শ্রমিকরা


স্থানীয় ট্রাক, ট্যাংক, লরি, কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জয়েনুদ্দীন বলেন, এলাকার এমপি নিজে একটি পাম্পে পেট্রোল নিতে গিয়েছেন। আর কর্মচারীরা তাকে পেট্রোল না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এতে তার অসম্মান হয়েছে। তাই এমপির অনুসারী শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের কর্মী অটল রায় বলেন, ‘‘আমাদের মালিকের নির্দেশ ছিল যেন কাউকে তেল না দেই। এমপি স্যারের গাড়ি যখন এখানে পেট্রোল নিতে আসে, সে সময় অনেক মোটরসাইকেল চালক ও বাস ট্রাককে আমরা জ্বালানি না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। জনরোষের ভয়ে এমপি স্যারের গাড়িতেও পেট্রোল দিতে রাজি হইনি আমরা।’’

বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, ঠাকুরগাঁওয়ের সভাপতি এনামুল হক বলেন, ‘‘বিষয়টি আমি শুনেছি। কর্মবিরতি আমাদের মালিক-শ্রমিক সমিতির যৌথ সিদ্ধান্ত। এমপি সাহেবের গাড়ি যখন পেট্রোল নিতে গিয়েছিল তখন অনেক বিক্ষুব্ধ ক্রেতার ভিড় ছিল। তাই বিতরণকর্মীরা এমপি সাহেবের গাড়িতে পেট্রল দিতে রাজি হননি। পরে আমিই অন্য একটি পাম্প থেকে তাদের পেট্রল নেয়ার ব্যবস্থা কওে দেই। এখন শুনছি, ওই ঘটনা নিয়ে একদল শ্রমিক বিক্ষুব্ধ হয়ে পাম্পের কেনাবেচা বন্ধ করে দিয়েছে।’’

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে একযোগে জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে রবিবার সকাল ছয়টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করে ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতিসহ জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। সোমবার বিকেলের পর ওই কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

About

Popular Links