Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তীব্র শীতে নাস্তানাবুদ পঞ্চগড়

কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস ও ঘনকুয়াশায় জবুথবু সেখানকার মানুষ। খুব প্রয়োজন ছাড়া তারা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:০৬ পিএম

তীব্র শীতে নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়। গত চার দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। শুক্রবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ৯টার পর সূর্যের দেখা মিললেও শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জেলা শহরসহ এর আশপাশ এলাকা কুয়াশায় ঢেকে ছিল। দুপুরের পর কিছু সময়ের জন্য সূর্যের মুখ দেখা গেলেও সূর্যের তেমন তেজ ছিল না।

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহতভাবে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। পাশাপাশি ঘনকুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল মাঠঘাট প্রান্তর। রাস্তাঘাটে লোকজন চলাচল কম। যানবাহনও চলাচল কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে কুয়াশা বৃষ্টি পড়ছে। রাস্তাঘাট ভিজে গেছে। শীতের তীব্রতায় শহরের মানুষও খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষ খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যাদের পরিবারে লোকসংখ্যা বেশি তারা বাধ্য হয়ে তীব্র এই শীতেও কর্মসংস্থানের জন্য বের হন। প্রয়োজনীয় শীত বস্ত্র না থাকায় খেটে খাওয়া মানুষেরা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন।

খেটে খাওয়া মানুষের জন্য দুঃখের বার্তা নিয়ে এসেছে শীত। ঢাকা ট্রিবিউন

পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত ৪ দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে তেঁতুলিয়ায়।

শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে এখন পর্যন্ত অর্ধশত রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে হাসপাতালে রোগী ভর্তির চেয়ে বহিঃবিভাগে শীত ও শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মনোয়ারুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ১১ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন। শীতের তীব্রতা বাড়লে ভর্তির সংখ্যাও বাড়তে পারে।

পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতেই তীব্র শীতেও ঠাণ্ডা পানিতে কাজ করছেন কয়েকজন। ঢাকা ট্রিবিউন

এদিকে, তীব্র শীতে আলু ও বোরো ধানের চারার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কিছু কিছু বোরো চারায় এরই মধ্যে হলুদ হয়ে পড়েছে। অবশ্য কিছু স্বচ্ছল কৃষক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বোরো চারার খেত পলিথিনে ঢেকে দিয়েছেন।

বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুনুর রশিদ জানান, ঘনকুয়াশা গম ও সরিষার জন্য ভালো হলেও আলু, বোরো ধানের চারার জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু যেহেতু সকালে বা দুপুরের পর সূর্যের উঠছে এ কারণে এবার তেমন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। সরকারিভাবে প্রায় ৪০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

About

Popular Links