Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রবিবার রাতে যা ঘটেছিল ঢাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে

সোমবার (৬ জানুয়ারি) কুর্মিটোলা এলাকায় ধর্ষণের স্থান চিহ্নিত করে আলামত সংগ্রহ করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৫:৩৪ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। রবিবার (৫ জানুয়ারি) রাতে ধর্ষণের এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই রাজপথে নেমে আসেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রাত ১টার দিকে তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্ত্রী রোগবিদ্যা বিভাগে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ঢামেকের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) তাকে স্থানান্তর করেন সহপাঠীরা।

কীভাবে ধর্ষিত হলেন ঢাবি শিক্ষার্থী

রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আসন্ন পরীক্ষার জন্য একসঙ্গে পড়তে সহপাঠীর শেওড়ার বাসার উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে রওনা হন ওই শিক্ষার্থী। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভুল করে একটি স্টপেজ আগে কুর্মিটোলায় নেমে পড়েন তিনি।

গুলশান জোনের ডেপুটি কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বরাত দিয়ে বলেন, বাস থেকে ভুল স্টপেজে  নেমে যাওয়ায় কুর্মিটোলা থেকে হেঁটে শেওড়ার দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। এসময় সড়ক বিভাগের জন্য বর্ধিত জায়গার পাশে মেহগনির বাগানে তাকে মুখ চেপে ধরে নিয়ে যায় ধর্ষক। এরপর তাকে মারধর করা হয় এবং ধর্ষণের একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ওই শিক্ষার্থী।

ধর্ষণের পর কী ঘটেছিল

রাত ১০টার দিকে প্রায় তিন ঘণ্টা অজ্ঞান থাকার পর জ্ঞান ফিরে পান তিনি। এরপর একটি সিএনজিচালিত অটো রিকশা ভাড়া করে ওই বন্ধুর বাড়িতে যান তিনি। এরপর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় তার সহপাঠী।  এসময় তার অন্যান্য সহপাঠীরা ঢামেক হাসপাতালের সামনে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাম পা ভেঙে যায় বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান তার এক বন্ধু।

ঘটনাস্থল থেকে মিলেছে আলামত

এদিকে, সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে কুর্মিটোলা এলাকায় ধর্ষণের স্থান চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় ক্যান্টনমেন্ট  থানা পুলিশ, ডিবি ও সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট অপরাধ সংঘটনের স্থান থেকে আলামত সংগ্রহ করেন।

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনাস্থলে ভিকটিমের হাতঘড়ি, পরিধেয় বস্ত্র, ২টি ইনহেলার, কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে। আলামত হিসেবে সিআইডি সেগুলো সংগ্রহ করেছে।”

তিনি বলেন, “ওই ছাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী একজন ধর্ষক ছিল। তার কোনও আলামত আমরা পাইনি। তবে আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা, প্রযুক্তি সহায়তা, সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করেছি।”

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ

ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, "আমরা তার শরীরে অনেক স্থানে আঁচড়ের চিহ্ন পেয়েছি। এছাড়া পুনরায় পরীক্ষার জন্য ডিএনএ নমুনা পাঠিয়েছি। এ থেকে তাকে কয়জন ধর্ষণ করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।" 

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরউদ্দীন জানান, ওই শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিভাগের অধ্যাপক সালমা রউফকে প্রধান করে সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল আছে। তবে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। 


About

Popular Links