Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আজ বঙ্গমাতার ৮৮তম জন্মবার্ষিকী

ইতিহাসে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে নেপথ্যে অন্যতম অনুপ্রেরণাদাত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ স্বাধীকার আন্দোলনের প্রতিটি পদক্ষেপে বঙ্গবন্ধুকে সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন। প্রাণপ্রিয় স্বামী বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে তিনি অনুসরণ করেছেন ছায়ার মত। এই আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য জীবনে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পাছপা হননি তিনি। এজন্য অনেক কষ্ট-দুর্ভোগও পোহাতে হয়েছিল তাঁকে।

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ১১:৩০ পিএম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী আজ।

বঙ্গমাতা ১৯৩০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির জনকের হত্যাকারীদের হাতে নির্মম মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

বরাবরের মতো এবারও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হবে জাতীয়ভাবে। এই লক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দিবসটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

জন্মদিন উপলক্ষে এদিন সকালে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে থাকছে আলোচনাসভা। আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা। অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

বঙ্গমাতার ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে থাকবে বিশেষ অনুষ্ঠান। দিবসটি উপলক্ষে একটি স্মরণিকাও প্রকাশ করা হবে।

জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শহীদ ফজিলাতুন্নেসার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে কুরআন তিলাওয়াত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

বনানী কবরস্থানে বেগম ফজিলাতুন্নেসার কবরে শ্রদ্ধা জানাবে যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগও।

বঙ্গমাতা পরিষদ আজ বিকাল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আলোচনা সভা এবং গুণীজনদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ।

ইতিহাসে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে নেপথ্যে অন্যতম অনুপ্রেরণাদাত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ স্বাধীকার আন্দোলনের প্রতিটি পদক্ষেপে বঙ্গবন্ধুকে সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন। প্রাণপ্রিয় স্বামী বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে তিনি অনুসরণ করেছেন ছায়ার মত। এই আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য জীবনে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পাছপা হননি তিনি। এজন্য অনেক কষ্ট-দুর্ভোগও পোহাতে হয়েছিল তাঁকে।

সংসদ উপনেতা এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বঙ্গমাতাকে নিয়ে বলেন, তাঁর স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর ছিল। মনেপ্রাণে তিনি একজন আদর্শ বাঙালি নারী ছিলেন। অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, শান্ত ভাব , অসীম ধৈর্য্য ও সাহস নিয়ে জীবনে যে কোন পরিস্থিতি তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করতেন। জীবনে কোন বৈষয়িক চাহিদা ও মোহ তার ছিল না।

সাজেদা চৌধুরী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময় কাটিয়েছেন কারাগারে। তাঁর অবর্তমানে মামলা পরিচালনার ব্যবস্থা করা, দলকে সংগঠিত করতে সহায়তা করা, আন্দোলন পরিচালনায় পরামর্শ দেয়াসহ প্রতিটি কাজে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, তিনি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতেন। সংগঠনের জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে তিনি সবসময়ই অনুপ্রেরণা, শক্তি, সাহস, মনোবল ও প্রেরণা যুগিয়েছেন। তিনি ছিলেন আদর্শ স্ত্রী। 

বেগম ফলিজাতুন্নেসাকে নিতান্তই একজন সাদাসিধে নারী উল্লেখ করে সংসদ উপনেতা বলেন, কোন লোভ-লালসা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না নিলেও তাঁর কাছে ছিল শিক্ষার মূল উপাদান। বঙ্গমাতা বাঙালি রমণীদের জন্য যে আদর্শ রেখে গেছেন তা যুগ যুগ ধরে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। 


About

Popular Links