Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আশুড়ার বিলের সরকারি বাঁধ কেটে দিলো গ্রামবাসী

২০১৯ সালে নবাবগঞ্জের আশুড়ার বিলের পানি ধরে রাখার জন্য ক্রসড্যামটি নির্মাণ করা হয়। তবে গ্রামবাসীর অভিযোগ, এটি নির্মাণের পর আশপাশের জমিতে ধানচাষ করা যাচ্ছিল না

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০৭:০৬ পিএম

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ আশুড়ার বিল ও শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন “ক্রসড্যাম বাঁধ” কেটে দিয়েছে গ্রামবাসী। হাজারখানেক বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্র। তাদের থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. নাজমুন নাহার।

২০১৯ সালে নবাবগঞ্জের আশুড়ার বিলের পানি ধরে রাখার জন্য ১৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ক্রসড্যামটি নির্মাণ করা হয়। তবে গ্রামবাসীর অভিযোগ, এটি নির্মাণের পর আশপাশের জমিতে ধানচাষ করা যাচ্ছিল না।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে নবাবগঞ্জ আশুড়ার বিলের পাশে হরিপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ইউএনও নাজমুন নাহার বলেন, “সোমবার গভীর রাতে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানের পাশে আশুড়ার বিলে নির্মিত ক্রসরাবার ড্যামের পাশে দুই জায়গায় বাঁধ কেটে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার মো. আল মামুনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় কেটে দেওয়া বাঁধে মাটি ও গাছের গুঁড়ি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, বাঁধটি সংস্কারের কিছুক্ষণের মধ্যে পার্শ্ববর্তী হরিপুর গ্রামের হাজারখানেক নারী-পুরুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাঁধটি পুনরায় কেটে দেয়। বার বার শান্ত হতে বলা হলেও তারা কোন কর্ণপাত করেনি। 

বাঁধটি কেটে দেওয়ার ফলে পার্শ্ববর্তী গ্রামের প্রায় ৩০ বিঘা জমির বীজতলা তলিয়ে গেছে বলেও জানান ইউএনও।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে পার্শ্ববর্তী বিরামপুর ও দিনাজপুর পুলিশ লাইন্স এবং র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে, বাঁধ কাটার বিষয়ে হরিপুরের বাসিন্দারা বলেন, আশুড়ার বিলের পাশে প্রায় ১৯ হেক্টর জমিতে আমন ও ইরি ধান চাষ করা হতো। কিন্তু ক্রসড্যাম নির্মাণের ফলে তা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৪৪ সাল থেকে গ্রামবাসী এই জমিগুলো ভোগদখল করে আসছিল।

তবে, উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার মো. আল মামুন বলেন, আশুড়ার বিলের পাশে জমিগুলো সরকারের খাস জমি। গ্রামবাসীর দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন।

বিরামপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মিথুন সরকার বলেন, “খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভেঙে ফেলা বাঁধটিকে স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি ও গাছের গুঁড়ি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।”

About

Popular Links