Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সিলেটে মহাবিপন্ন ‘বাংলা শকুন’ উদ্ধার

শকুনটি ক্ষুধার্ত ও দুর্বল ছিল বলে উড়তে পারছিল না

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:৪০ পিএম

অসুস্থ অবস্থায় পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন প্রজাতির “বাংলা শকুন” উদ্ধার করেছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) প্রাণী অধিকার ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা সংগঠন “প্রাধিকার”

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক শহরের নুরাল্লাপুর এলাকা থেকে শকুনটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে সিলেট বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন প্রাধিকারের সভাপতি আহম্মেদ রাফি। 

সুনামগঞ্জের বাসিন্দা রাকিব উদ্দিন বাবলু জানান, নুরাল্লাপুর এলাকার একটি বনে শকুনটিকে পড়ে থাকতে দেখে কিছু শিশু-কিশোর সেটি নিয়ে খেলতে শুরু করে। এসময় তারা শকুনটিকে আরও আহত করে ফেলে। পরে স্থানীয় কিছু যুবক আহত শকুনটি বাড়িতে নিয়ে যায়। 

পরবর্তী সময়ে গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ফেসবুক গ্রুপে পাখিটির ছবি প্রকাশ করেন মো. মেহেদি হাসান মামুন নামে এক যুবক। ছবিটি প্রাধিকারের সদস্যদের নজরে আসায় তাৎক্ষণিক যুবকের সাথে যোগাযোগ করেন। প্রাধিকারের রেসকিউ টিমের সদস্য প্রশান্ত দেবনাথ স্মরণ ও কোষাধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম শকুনটি নুরাল্লাপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করে সিলেটে নিয়ে আসেন। 


আরও পড়ুন - শকুন সংরক্ষণে বাংলাদেশ, কী করছে সরকার?


তাজুল ইসলাম বলেন, “এটি বাংলা শকুন নামে পরিচিত। বর্তমানে পৃথিবীতে এটি সবচেয়ে বিপন্ন প্রজাতির শকুন।”

শকুনটি ক্ষুধার্ত ও দুর্বল ছিল বলে উড়তে পারছিল না। আপাতত শকুনটিকে টিলাগড় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে রেখে খাবারসহ অন্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। উড়তে সক্ষম হলে শকুনটি অবমুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। 

এদিকে, পরিচয় নিশ্চিত হতে ঢাকা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে শকুনটির ছবি পাঠানো হয় বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলার কাছে। তিনি এই প্রজাতিটিকে “বাংলা শকুন (বৈজ্ঞানিক নাম Gyps bengalensis)” বলে চিহ্নিত করেন।

তিনি বলেন, “পৃথিবীতে দ্রুততম বিলুপ্ত হতে চলা প্রাণী শকুন। তাই শকুনমাত্রই বিশ্বে ‘মহাবিপন্ন’ (Critically Endangered)। বাংলাদেশে শকুনের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) এর হিসেবে বাংলাদেশে মাত্র ২৬৮টি শকুন রয়েছে।”


আরও পড়ুন - গাইবান্ধায় মহাবিপন্ন ৫টি শকুন উদ্ধার


তিনি আরও বলেন, “পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেনের ব্যবহার, খাদ্য সংকট এবং বাসস্থান সংকটসহ নানা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত এই পাখিটি হারিয়ে যাচ্ছে। শকুন বিলুপ্ত হয়ে গেলে সুন্দর একটি পাখি হারানো পাশাপাশি দেশের মানুষ এনথ্রাক্স, জলাতঙ্কসহ পশু হতে সংক্রামক রোগের ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে। বন বিভাগসহ আইইউসিএন শকুন রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাখিটির প্রতি আমাদের সদয় হওয়া খুবই প্রয়োজন।”


আরও পড়ুন - পদ্মা সেতুর চীনা শ্রমিকদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো সজারু

About

Popular Links