Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এক রাতে নির্মিত মসজিদ!

নির্মাণশৈলীর ভিত্তিতে মসজিদটিকে হোসেন শাহী আমলের বলে মনে করেন প্রত্নতত্ববিদরা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ০৫:৪৭ পিএম

দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলায় সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুরা মসজিদ। পীরের মসজিদ নামেও পরিচিত এ মসজিদটি এক রাতেই এই মসজিদটি তৈরি হয়েছে বলে প্রচলিত রয়েছে।

ইট ও পাথরে নির্মিত মসজিদটির চারপাশে ছড়িয়ে আছে বেশ কিছুসংখ্যক প্রস্তরফলক। কিছু কিছু প্রস্তরফলকে ছোট সোনা মসজিদে ব্যবহৃত নমুনার প্যানেল ও অন্যান্য ডিজাইন রয়েছে।

নির্মাণশৈলীর ভিত্তিতে মসজিদটিকে হোসেন শাহী আমলের বলে মনে করেন প্রত্নতত্ববিদরা। সম্প্রতি এ স্থান থেকে কয়েক মাইল দূরে চম্পাতলী নামক স্থানে আলাউদ্দীন হোসেন শাহের আমলের একটি শিলালিপি আবিষ্কৃত হয়েছে। তাতে ৯১০ হিজরি/১৫০৪ খ্রিস্টাব্দ উল্লেখ আছে।

প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, মসজিদটি ইট দিয়ে নির্মিত হয়েছিল এবং দেয়ালের গায়ে বেশ উঁচু পর্যন্ত পাথর বসানো ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেয়ালের কোন অংশেই পাথরের কোন চিহ্ন নেই। তাছাড়া দেয়ালগুলির বহির্গাত্রের অলঙ্করণে শিকল ও ঘণ্টার ঐতিহ্যগত মোটিফ অঙ্কিত পোড়ামাটির অলঙ্করণ রয়েছে। দেয়ালগুলিতে যদি পাথর বসানো থাকত তাহলে ইটের উপরে পোড়ামাটির অলঙ্করণ করা সম্ভব হতো না।

এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকার এই মসজিদের সম্মুখভাগে একটি বারান্দা রয়েছে। মসজিদটি একটি উঁচু চত্বরের উপর নির্মিত। পূর্ব পাশ থেকে কয়েক ধাপ সিঁড়ি চত্বর পর্যন্ত উঠে গেছে। উন্মুক্ত চত্বরটির চার পাশ পুরু প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল। বর্তমানে স্থাপনাটির ভিত পর্যন্তই প্রাচীর রয়েছে। তবে পূর্ব পার্শ্বের প্রবেশদ্বারের উচ্চতা থেকে অনুমান করা যেতে পারে যে, মসজিদটিকে বাইরের শব্দ ও কোলাহল থেকে মুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে বেষ্টন-প্রাচীরগুলিও যথেষ্ট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। বাংলার আর কোন মসজিদে এমন কৌশল আগে কখনও দেখা যায় নি।

মসজিদের বারান্দা জুড়ে রয়েছে তিনটি গম্বুজ। এই গম্বুজগুলি পেন্ডেন্টিভ পদ্ধতিতে স্থাপিত। ছোট সোনা মসজিদের সঙ্গে এই গম্বুজগুলির ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্য আছে।

ইমারতটির বহির্গাত্রে গোলাপ ও অন্যান্য লতাপাতার নকশাখচিত পোড়ামাটির কারুকাজ আছে। জ্যামিতিক আকৃতির কিছু নকশাও দেখতে পাওয়া যায়। ভেতরের মিহরাবগুলি ছিল সম্পূর্ণরূপে পাথরের তৈরি। মধ্যবর্তী মিহরাবটি সূক্ষভাবে কারুকার্যখচিত।

এখান থেকে কোন লিপিফলক পাওয়া যায় নি। এতে একটি মসজিদ নির্মাণের উল্লেখ রয়েছে। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, এই লিপিটির সঙ্গে সুরা মসজিদের সম্পর্ক আছে, তাহলে মসজিদটির নির্মাণকাল ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দ বলে ধারণা করা যায়।

আপনি চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন এই প্রাচীন নিদর্শনটি।

About

Popular Links