Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান করায় শিক্ষার্থীকে হেনস্থা করলেন এমপি’র সফরসঙ্গী

এ ঘটনায় ভোলাহাট থানায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা লাল মোহাম্মদ এবং ভোলাহাট থানা পুলিশের এসআই রাজু আহম্মেদ বাদী হয়ে দু'টি মামলা দায়ের করেছেন

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:০৭ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান পরিবেশন করায় এক শিক্ষার্থীর গানের ডায়েরি কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি'র সংসদ সদস্য (এমপি) আমিনুল ইসলাম সফরসঙ্গী ও বিএনপি নেতা লতিফুর রহমান ওরফে বিলাস সর্দারের বিরুদ্ধে।

গত সোমবার (২৭ জানুয়ারি) উপজেলার মুশরিভুজা ইউসুফ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীন-বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিরুদ্দিন মন্ডল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভুজা ইউসুফ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীন-বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ইসরাত জাহান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান পরিবেশন শুরু করে। এ সময় ওই ছাত্রী "যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই..." গানটি গাইতে শুরু করে। একপর্যায়ে এমপির সফরসঙ্গী বিলাস সরদার মঞ্চে উঠে তার গানের ডায়েরিটি কেড়ে স্টেজের বাইরে ছুড়ে ফেলে এবং তার মাইক্রোফোনটি কেড়ে নেয়। এ সময় ওই শিক্ষার্থী হতভম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম। প্রথম পর্বের আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে দ্বিতীয় পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলার সময় এমপি আমিনুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের অন্য একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন। এসময় তার অনুসারীরাও তার সঙ্গে অবস্থান করছিল। ইসরাত জাহান গানটি শুরু করা মাত্র বিলাস সর্দার সেখান থেকে মঞ্চে এসে গান গাইতে বাধা দেন।

এদিকে, মঞ্চে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে এই ঘটনায় দু'টি মামলা দায়ের করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ভোলাহাট থানার ওসি নাসিরুদ্দিন মন্ডল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "এ ঘটনায় ভোলাহাট থানায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা লাল মোহাম্মদ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে এবং ভোলাহাট থানা পুলিশের এসআই রাজু আহম্মেদ বাদী হয়ে দু'টি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত বিলাস সরদারসহ তিন জনকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়।"

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "বিলাস ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, ফেসবুক খুঁজে দেখুন তাহলে প্রমাণ পাবেন। তার বাবা বিএনপি করে। আমি বিলাসকে চিনিও না। আমি ঘটনার বিষয়টি জানি না, আমি খাওয়া-দাওয়ার পর সেখান থেকে চলে আসি। পরে রাত ১০টার দিকে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো একেবারে মিথ্যা। আমিও চাই আপনারা সত্যটা বের করুন।"

তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. সাঈদ জামান আনন্দ জানান, "বিলাস সর্দার ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলেন না।

About

Popular Links