Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘সফল’ চোরাচালান অথবা নির্মম মৃত্যু

ভারতীয় চোরাকারবারিরা ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবেশ মুখ ভারতের কালাইয়ে উজান থেকে কলা গাছ অথবা খড়ের ভেলার সাথে ৮-১০টি করে গরুর পা বেঁধে রাতে ভাসিয়ে দেয়

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২০, ০৪:৪০ পিএম

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে চোরাকারবারিদের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মারা গেছে শতাধিক পাচার হওয়া গরু। মৃত এসব গরু কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রারপুর ইউনিয়ের বিভিন্ন ডুবো চরে আটকে গেছে।

শুধু একটি বা দুটি চর নয়, নদের বুকে জেগে ওঠা ১০ থেকে ১২টি চরে মরা গরু ভেসে আসার অমানবিক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ভারতীয় চোরাকারবারিরা ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবেশ মুখ ভারতের কালাইয়ে উজান থেকে কলা গাছ অথবা খড়ের ভেলার সাথে ৮-১০টি করে গরুর পা বেঁধে রাতে ভাসিয়ে দেয়। রাতের অন্ধকার এবং ঘন কুয়াশায় দুদেশের সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব গরু প্রবেশ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। পরে এ দেশের চোরাকারবারিরা গরুগুলো উদ্ধার করে নিলেও অনেকগুলো দৃষ্টির আড়ালে চলে গিয়ে পানিতে ডুবে ও অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় মারা পড়ে। এসব মৃত গরু আটকা পড়ছে ব্রহ্মপুত্রর বিভিন্ন ডুবো চরে।

সরেজমিনে কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর যাত্রাপুর, চিরা খাওয়া, ঝুনকার চর, অষ্টআশির চর ও রলাকাটার চরসহ বেশকিছু চরে দেখা যায়, নদের দুই পাড়ের এসব ডুবো চরের কোনোটিতে ৪০টি, কোনোটিতে ২০টি, কোনোটিতে ১০টি আবার কোনোটিতে ১৫টি মৃত গরু পড়ে আছে। এসব গরুর কোনো কোনোটির চামড়া নিয়ে গেছেন স্থানীয় মুচিরা।

চর যাত্রাপুরের নৌকার মাঝি মো. কোবাদ মোল্লা জানান, সেখানকার ডুবো চরে গত চার-পাঁচ দিনে মৃত ৯টি গরু আটকা পড়েছে। উজানের চরগুলোতে আটকে আছে আরও অসংখ্য মৃত গরু।

একই এলাকার নৌকার আরেক মাঝি মো. শাহ্ আলম মিয়া জানান, আগে কাঁটাতারের উপর দিয়ে গরু পাচার হয়ে আসত। এখন কড়া পাহারা ও বিএসএফের গুলির ভয়ে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের উজান থেকে গরুর পা বেঁধে নৌপথে পাচার করছেন চোরাকারবারিরা। এসব গরুর যেগুলো বাংলাদেশের চোরাকারবারিরা ধরতে পারছেন সেগুলো বেঁচে যাচ্ছে। আর যেগুলো ধরতে পারছেন না সেগুলো পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে।

চর ভগবতীপুরের জলিল মোল্লা জানান, তার বাড়ির পাশের দুটি ডুবো চরে অসংখ্য মৃত গরু পড়ে আছে। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব মরা গরুর পচা দুর্গন্ধে তারা বাড়িতে থাকতে পারছেন না। আগে নদীর পানিতে গোসলসহ বিভিন্ন কাজ করা গেলেও এখন পাড়েই আসা যাচ্ছে না।

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার বলেন, তার ইউনিয়নের অন্তত ১০-১২টি ডুবো চরে অসংখ্য মৃত গরু আটকা পড়ে আছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। গরু পাচার রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মৃত গরুগুলো অপসারণের দাবি জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবির পরিচালক মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, “দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া নজরদারির মাঝেও নদী পথে ভিন্ন কৌশলে চোরাকারবারিরা গরু পাচার করায় অনেক গরু মারা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।”

জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, “নির্দয়ভাবে গরু পাচার এবং গরু মৃত্যুর ঘটনাটি শুনেছি। পাচার রোধের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

About

Popular Links