Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাছগুলো রক্ষায় এগিয়ে আসেনি কেউই!

‘এভাবে এতগুলো গাছ কাটা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সদুত্তর পাওয়া যায়নি’

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৪১ পিএম

সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের হাওরপাড়ে সড়ক প্রশস্তকরণের সুযোগে প্রায় ২০০ ছায়াবৃক্ষ কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

জেলার বৃহত্তম শনির হাওরের কূল ঘেষে যাওয়া সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারপুর-চিকশা অংশে গত প্রায় ২০ বছরে এই ছায়াবৃক্ষগুলো বেড়ে উঠেছিল। গাছগুলো রক্ষায় এগিয়ে আসেনি কেউই!

সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারপুর থেকে চিকশা অংশে প্রশস্তকরণ কাজ চলছে। প্রশস্তকরণের সুবিধার্থে কয়েকটি গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করেছিল সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বন বিভাগ। কিন্তু গত বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার দিনে-রাতে সড়কের পাশে থাকা সবগুলো গাছই কেটে নেওয়া হয়।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালেও এই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি গাছ কাটছেন। ছবি ওঠানোর জন্য ক্যামেরা তাক করতেই সড়কের ঠিকাদার সিলেটের শিবগঞ্জ এলাকার জামিল ইকবাল কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, “এই গাছ কাটবে না, তাড়াতাড়ি যাও এখান থেকে।” সাথে সাথে দৌড়ে পালালেন দুই ব্যক্তি।

সড়কে থাকা অন্যান্য শ্রমিকদের জিজ্ঞেস করেও ওই বৃক্ষ কর্তনকারীদের পরিচয় পাওয়া গেল না।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল কনস্ট্রাকশনের সাইড ম্যানেজার আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার দিনে-রাতে ওই গাছগুলো কাটা হয়েছে। ওই সময় সড়কের কাজ বন্ধ ছিল।

আব্দুল ওয়াহিদ আরও জানান, এই সড়কে শ্রমিক হিসেবে যারা কাজ করছে, এদের মধ্যে হোসেনপুর ও দক্ষিণকূলের কিছু শ্রমিক গাছ কেটে নিয়েছে।

চিকশা গ্রামের ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া জানান, ২০০১ সালে সড়ক হবার পরপরই এই গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। কিছু গাছ মরে গেছে। যে গাছগুলো সড়কে ছিল, তা পথচারীদের ছায়া দিতো। শনির হাওরের তীরঘেষা সড়কে থাকা গাছগুলো হাওরেরও অনেক উপকারে আসতো। প্রখর রোদে এই গাছগুলো ছাড়া ছায়া দেবার কিছুই নেই।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটু বলেন, এমন নিষ্ঠুর কাজ যারা করেছে, তাদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। শনির হাওরের পাড়ে যেখানে এই ছায়াবৃক্ষ ছিল, ওই এলাকায় কোনো বাড়ি-ঘরও নেই। পথচারী কিংবা হাওরের প্রাণিকূলের জন্য এগুলো থাকা জরুরি ছিল।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের ওই সড়কের দেখভালকারী প্রকৌশলী ওসমান মিয়া বলেন, “সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য এই গাছগুলো কাটার প্রয়োজন নেই। নিষ্ঠুরতা দেখে আমি নিজেও অবাক হয়েছি। বন কর্মকর্তাকে আমাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”

বন বিভাগের তাহিরপুর বন বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বীরেন্দ্র কিশোর রায় বলেন, “গাছগুলো বন বিভাগের লাগানো নয়। তবে সরকারি সড়কের সকল গাছের মালিকই সরকার। সড়কে কাজ করার সময় কয়েকটি গাছ কাটার জন্য বলা হয়েছিল। আমরা সেগুলো চিহ্নিত করেছিলাম। অন্য গাছ কারা কাটলো জানি না। সড়কের উন্নয়ন কাজ যারা করছে, তাদেরও দায়িত্ব ছিল গাছগুলো দেখে রাখার।”

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বীজেন ব্যানার্জী বলেন, “এভাবে এতগুলো গাছ কাটা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “আনোয়ারপুর-চিকশা সড়কে অনেকগুলো গাছ কোনো কারণ ছাড়াই কাটা হয়েছে শুনে পুলিশ পাঠিয়েছি আমরা। ওখানে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এই বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।”

About

Popular Links