Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হাওরে পাখি শিকারিদের বিষটোপে মারা গেল ৫০০ হাঁস

একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে হাঁসের খামার গড়ে তুলেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে হাঁসগুলো আনতে গিয়ে দেখেন বেশিরভাগ হাঁসই পাখি শিকারিদের বিষটোপে মারা পড়েছে

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৫৬ এএম

মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে পরিযায়ী পাখি শিকারিদের বিষটোপে এক খামারির ৫০০ হাঁস মারা গেছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় খামারের মালিক পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াসিনুল হক ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

জানা যায়, গত সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বড়লেখা উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় পাখি শিকারিরা বিষটোপ দিয়ে রাখে। পরদিন মঙ্গলবারে ইসলামপুর গ্রামের দরিদ্র খামারি ইসলাম উদ্দিনের খামারের প্রায় ৫০০ হাঁস বিষটোপে মারা যায়।

ইসলাম উদ্দিন জানান, তিনি একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তিনি হাঁসের খামার গড়ে তুলেছিলেন। তিনি হাঁসগুলোকে প্রতিদিন সকালে পলোভাঙ্গা বিলে ছেড়ে দিতেন এবং বিকালে ফিরিয়ে আনতেন।  মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হাঁসগুলো আনতে গিয়ে দেখেন তার বেশিরভাগ হাঁসই মৃত অবস্থায় পড়ে আছে, মাত্র গুটিকয়েক জীবিত। 


আরও পড়ুন - বনরুই পাচার ও বিলুপ্তি ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ কি যথাযথ?


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শীত মৌসুমে হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন বিলে পরিযায়ী পাখিরা আসে। এসব পাখি শিকার করতে শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রায় সবক’টি বিলে পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম দেখা যায়। শিকারিরা বিকেলে হাওরের বিলগুলোতে বিষ জাতীয় দ্রব্য মিশ্রিত ধান ছিটিয়ে রাখে। রাতে পরিযায়ী পাখিরা খাবারের সন্ধানে বিলের পারে এসে বিষ মিশ্রিত ধান খেয়ে মারা যায়। পরে শিকারিরা মৃত পাখি জবাই করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে। 

স্থানীয়রা আরও জানান, হাওরের প্রায় সকল এলাকায় শিকারিদের দৌরাত্ম রয়েছে। তবে বড়লেখা উপজেলার ইসলামপুর হাল্লা ও খুঁটাউরা এলাকায় সবচেয়ে বেশি পাখি শিকার হয়।

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় দুইজন উপ-পরিদর্শক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে কতটি হাঁস মারা গেছে এখনও বিষয়টি পরিষ্কার না। তবে তদন্ত চলছে, শিকারিদের ধরে আইনের আওতায় আনা হবে।”


আরও পড়ুন - খরগোশ শিকারিদের হাতে প্রাণ গেল মেছোবাঘের


তিনি আরও বলেন, “বিষ প্রয়োগ করেছে কেউ দেখে নাই। এখানে প্রাণী সম্পদ বিভাগ আছে তারা যদি সনাক্ত করে বিষটোপে হাঁস মারা গেছে তাহলে আমরা নিশ্চিত হতে পারতাম বিষটোপে মারা গেছে।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বড়লেখা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, “আমি গত ৩/৪দিন যাবৎ ঢাকায় প্রশিক্ষণে ছিলাম, বিষয়টি আমার জানা নেই। আর খাঁমারি মালিক আমাকে জানায় নাই। তারপরও আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।”


আরও পড়ুন - পদ্মা সেতুর চীনা শ্রমিকদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো সজারু

About

Popular Links