Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘সাংবাদিকদের কাছে গেছেন, আপনার বিধবা ভাতা হবে না’

১৫ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন ওই নারী

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৩:৩১ পিএম

“আবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে গেছেন, আপনার বিধবা ভাতা হবে না।”- এমন দম্ভোক্তির সঙ্গে ষাটোর্ধ্ব নারীকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৌশিক খানের বিরুদ্ধে। 

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে এমন ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নজনের কাছে ধর্ণা দিয়ে আসছিলেন উপজেলার শিবগনর গ্রামের মৃত সূর্যকান্ত দাসের স্ত্রী ভবানী দাসী। ১৫ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন ওই নারী। গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেন তিনি। 

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা।

কিন্তু বৃদ্ধা ভবানী দাসীর অভিযোগ, আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজসেবা দপ্তরের মাঠকর্মী স্থানীয় এক যুবকের মাধ্যমে তার কাছে ৫শ' টাকা দাবি করেন। সেই টাকা দিতে না পারায় তিনি বিধবাভাতা কার্ড পাননি। 

অবশেষে তিনি এলাকাবাসীর মাধ্যমে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আবেদনপত্র নিয়ে সহায়তার জন্য যান। স্থানীয় সাংবাদিকরা মুঠোফোনে সমাজসেবা কর্মকর্তা কৌশিক খানকে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করেন। 

সাংবাদিকদের কাছ থেকে ফিরে গিয়ে ভবানী দাসী আবার সমাজসেবা অফিসে গেলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন কর্মকর্তা। দম্ভোক্তি প্রকাশ করে বলেন, “আবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে গেছেন, আপনার বিধবাভাতার কার্ড আর কোনোদিন হবে না, ড্রয়ারের মধ্যে রাখলাম।এটা আর আলোর মুখ দেখবে না।” 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কৌশিক খান বলেন, “যাচাই-বাছাই শেষ হয়ে গেছে। আর কোনো সুযোগ নেই। আর তদন্তে গিয়ে কেউ যদি টাকা দাবি করে, নাম বলুন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

About

Popular Links