• বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩২ রাত

খুলনার নগরপিতা তালুকদার খালেক

  • প্রকাশিত ০৯:৫০ সকাল মে ১৫, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:০৯ দুপুর মে ১৬, ২০১৮
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

দুটি কেন্দ্রে ভোট বাতিলের মধ্য দিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) পঞ্চম দফা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এক নাগাড়ে ভোট গ্রহণ শেষে এখন শুরু হয়েছে ভোট গণনার কাজ।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ৬৫ হাজার ৬০০ ভোটের বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬টির ফলাফলে খালেকের প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫১। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট।

এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মেয়রপ্রার্থী এস. এম. শফিকুর রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৭২ ভোট।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শহরের সোনাডাঙ্গা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রভিত্তিক বেসরকারি এই ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী।

ইউনুচ আলী জানান, তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা প্রতীকে লড়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট।

বেসরকারিভাবে বিজয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাকে নির্বাচিত করায় খুলনাবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। এটি উন্নয়নের বিজয় হয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমি খুলনার উন্নয়ন করে যেতে চাই।’ একইসঙ্গে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে মেয়র পদে নির্বাচন করতে আদেশ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। এসময় তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। পরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গেলে সেখানেও তাকে আনন্দে উৎফুল্ল নেতাকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।



খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল ৮টায় মহানগরীর ভোট কেন্দ্রগুলোয় একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষ করার পরপরই ভোট গণনা শুরু হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়াও জোরপূর্বক ভোট দেওয়ার অভিযোগে দুটি কেন্দ্রের ভোট বাতিল হয়েছে।  



০২:৪০ দুপুর:

কেসিসি নির্বাচনে ৪০ কেন্দ্র দখলের অভিযোগ বিএনপির

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৯টি ওয়ার্ডের ৪০টি কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকা মার্কায় জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সরকারি জয়োল্লাসের ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছিল নির্বাচনের দিন ভোটের পরিণতি কী হবে। আজকে দেশবাসী সেই চিত্রই দেখছে। 

রিজভী বলেন, ‘আজ ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই ‘হাসিনা মার্কা’ নির্বাচনের স্বরূপ আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেছে। ধানের শীষের এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, কয়েকদিন ধরে তাদের বাড়িতে বাড়িতে হুমকি, নারী ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করাসহ আওয়ামী লীগের রক্তাক্ত নির্বাচন বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকার সমর্থিত টিভি চ্যানেলগুলোতেও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট সন্ত্রাস ও ভোট জালিয়াতির চিত্র প্রচারিত হয়েছে।’

সব অভিযোগ স্থানীয় নির্বাচনি কর্মকর্তাদের গোচরে আনা হলেও তারা এক চোখ বন্ধ করে কাজ করছে বলে ভাষ্য রিজভীর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নিজেদের সাংবিধানিক স্বাধীনতা অস্বীকার করে সরকারের কাছে পরাধীন হওয়ার জন্য আত্মসমর্পণ করেছে। নির্বাচন কমিশন সরকারেরই ফটোকপি। 

এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের সংক্ষিপ্ত চিত্র। দৌলতপুরের ৪ নং ওয়ার্ডের, ২১ নং ওয়ার্ডের ২৪ নং ওয়ার্ডের ৩১ নং ওয়ার্ডের কেন্দ্র-২৭৭ ও ২৭৮, ২৪ নং ওয়ার্ডের কেন্দ্র-২০১ ও ২০২ ইকবাল নগর বালিকা ভোট কেন্দ্রসহ ১৯ টি কেন্দ্র নৌকা মার্কায় জাল ভোট চলছে।



০২:২০ দুপুর:

২২ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট বাতিলের আবেদন

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট বাতিলের লিখিত আবেদন করেছেন কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মাহবুব কায়সার। মঙ্গলবার (১৫ মে) ভোটের দিন দুপুরে কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুস আলীর কাছে বিএনপি সমর্থিত এই কাউন্সিলর প্রার্থী অভিযোগ দায়ের করেন।



১২:৫৫ দুপুর:

ইকবাল নগর কেন্দ্রের ভোট বাতিল

ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারার ঘটনায় খুলনা মহানগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০২ নম্বর ভোটকেন্দ্র ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রির্টানিং অফিসার ইউনুস আলী এ তথা জানিয়েছেন। এছাড়া কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি’র ক্যাম্পে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নুরুল ইসলাম জানান, ইকবাল নগর স্কুল কেন্দ্রে সাতটি বুথ ছিল। বেলা ১১টার দিকে স্কুলের একাডেমিক ভবন-২ সাত নম্বর বুথে ১৫-২০ জনের একটি দল দোতলায় উঠে আসে। তার কাছ থেকে ব্যালটের বই ছিনিয়ে নিয়ে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর তিনি বিষয়টি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে বিষয়টি জানান। তিনি ঘটনাস্থল পরির্দশণের পর তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বাতিল করে দেন।   

রির্টানিং অফিসার ইউনুস আলী বলেছেন, প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে। ভোট বাতিলের আগ পর্যন্ত ২০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ২১২৪।

তিনি আরও জানান, ব্যালট বাক্সে ভরা ব্যালটের মধ্যে কাউন্সিল (সংরক্ষিত) পদপ্রার্থী লিভানা পারভীনের মগ মার্কা এবং সাধারণ কাউন্সিল পদপ্রার্থী মইনুল ইসলামের ঠেলাগাড়ি সিল পাওয়া গেছে। কোনও মেয়র পদপ্রার্থীর জন্য ভোট ব্যালট দেওয়া হয়েছে কিনা জানা যায়নি।

এর আগে বিএনপি’র পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ব্যালট পেপার কেড়ে নেওয়া এবং মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ‘তারা চাপে আছেন। ভয়ে গলায় কার্ড ঝুলাতে সাহস পাচ্ছেন না।’

সকালে রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটদান শেষে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জু একই অভিযোগ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার খবর পেয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। খবর পেয়েছি ২২, ২৫, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কোনও কেন্দ্রেই বিএনপি’র এজেন্ট নেই। তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ৩০টি সেন্টারের খবর পেয়েছি যেখান থেকে আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের প্রবেশের ব্যবস্থা করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাই।’ তবে তিনি নির্বাচনের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন।



১২:২০ দুপুর:

ইভিএমে নারীরা খুশি, পুরুষরা নাখোশ

খুলনা সিটি করপোরেশ (কেসিসি) নির্বাচনে দুটি মাত্র কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া নিয়ে নারী ভোটারা খুশি হলে পুরুষ ভোটারা নাখোশ। মঙ্গলবার নগরীর সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সহরের পিটিআই কেন্দ্রে ঘুরে এবং ভোটাদের সঙ্গে কথা বলে এ প্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়।

 সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বের হওয়া তানজিলা আক্তার অমি (২১)নামে এক ভোটার বলেন,‘লাইফে প্রথম ভোট দিয়েছি। খুব ভালো লাগছে। সেটাও আবার ইভিএম পদ্ধতিতে। বাটন চেপে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলাম কোনও সমস্যা হয়নি। এটি (ইভিএম) অনেক সহজ একটি পদ্ধতি। ভুল ভোট দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’

অন্যদিকে বয়স্ক নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার ব্যাপারটা তাদের কাছে প্রথমে কিছুটা জটিল মনে হলেও বুঝিয়ে দেওয়ার পর আর সমস্য হচ্ছে। তারা এ পদ্ধতি নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট।

ইকবাল নগরী এলাকা থেকে আসা ভোটার নাজমা বেগম (৫০) বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতিতে এই প্রথম ভোট দিলাম। প্রথম কঠিন মনে হচ্ছিল। বুঝিয়ে দেওয়ার পর আর সমস্যা হয়নি। খুব ভালোভাবে ভোট দিয়েছি।’ 

সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মামুন অর রশীদ জানান, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। এই কেন্দ্রে ১০৯৯ জন নারী ভোটার ইভিএম পদ্ধতিতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট নিরপেক্ষ করতে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ভোটাররা দ্রুত ভোট দিতে পারছেন। কারও বুঝতে সমস্যা হলে আমাদের পক্ষ থেকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল নিয়ে কাউকে ভোট কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট দিচ্ছেন। 

অন্যদিকে নগরীর পিটিআই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিচ্ছেন। এ পদ্ধতিতে ভোট দিতে গিয়ে পরুষ ভোটারা অসোন্তষ। তারা বলছেন এ পদ্ধতিতে ভোট দিতে সময় বেশি লাগছে, ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

এ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা পূর্ববানিয়া খামার এলাকার সুমন হোসেন ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতিতে সময় বেশি লাগে। তাই আমাদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আঙুলের ছাপ না মেলায় বার বার চেষ্ট করা হচ্ছে। এ কারণে সময় বেশি লাগছে। ’

একই এলাকা থেকে আসা প্রদীপ জানান, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। আমার আগুলের ছাপ না মিলায় আবার বাসায় গিয়ে ন্যাশনাল আইডি কার্ড আনতে হয়েছে। আমার কাছে ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়াই সহজ  মনে হয়।

পিটিআই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. মামুন সরদার বলেন, ‘নতুন পদ্ধতি এ কারণে ভোটারদের বুঝতে সময় লাগছে। দুই ঘণ্টায় ৩শ’ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোট শান্তিপূর্ণ হচ্ছে।

কেন্দ্র দুটোতেই সকালে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ছে।



১২:০০ দুপুর:

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (কেসিসি) বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিএনপি’র পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ‘তারা চাপে আছেন। ভয়ে গলায় কার্ড ঝুলাতে সাহস পাচ্ছেন না।’

আমাদের প্রতিনিধি তৌহিদ জামান, আসাদুজ্জামন সরদার ও সামসুর রহমান বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে, ভোটার ও ধানের শীষের এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথা জানিয়েছেন।

প্রিসাইডিং অফিসার আতিউর রহমান বলেছেন, ‘সিরাজুল ইসলাম নামে এক পোলিং এজেন্ট আমার কাছে অভিযোগ করেছেন, নৌকার কর্মীরা তাকে মারধর করেছেন।’

২২ নম্বর ওয়ার্ডের ১১৯ নম্বর কেন্দ্রে থেকে ধানের শীষের এক পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য ওই কেন্দ্রে ধানের শীষের কোনও পোলিং এজেন্টকে পাওয়া যানি।

এর আগে সকালে রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটদান শেষে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জু একই অভিযোগ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার খবর পেয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। খবর পেয়েছি ২২, ২৫, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কোনও কেন্দ্রেই বিএনপি’র এজেন্ট নেই। তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ৩০টি সেন্টারের খবর পেয়েছি যেখান থেকে আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের প্রবেশের ব্যবস্থা করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাই।’ তবে তিনি নির্বাচনের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন।

আর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২১৭ নম্বর কেন্দ্রে (সিদ্দিকীয়া) ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নৌকার সমর্থকরা সিল মেরে বলে অভিযোগ করেছেন একজন ভোটার।

তবে এখন পর্যন্ত নগরীর কোনও কেন্দ্র থেকে সহিংসতার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটোরদের অপেক্ষা করছেন। একইসঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও বেশ ভালো।

এদিকে, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২১৭ নম্বর কেন্দ্রে ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নৌকার সিল মারা অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার বলেন, সকাল  সাড়ে ১০টার পর এখানকার পুরুষ ভোটার বিশেষ করে ধানের শীষ,  লাঙলের ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নৌকার সিল মেরেছে।

আব্দুস সোবহান নামে এক যুবক বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কেন্দ্র থেকে সামান্য দূরে এসে বলেন, ‘ভাই, আমার ব্যালটটি তারা (নৌকার লোকজন) কেড়ে নেয়। এরপর তাতে তাদের মার্কার সিল মারে। আমি আমার কাঙ্ক্ষিত মার্কায় ভোট দিতে পারিনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌকার এক  কর্মী সাংবাদিকদের  বলেন, ‘এই কেন্দ্রে রাজাকারদের ভোট বেশি। আপনারা আছেন বলেই কাউকে বের করে দিতে পারছি না।’

এই কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আকবর জানান, ‘সকালে অনেক ভোট কাস্ট হয়েছে। এখন একটু কম। দুপুরের পর ফের বাড়বে মনে হয়।’

ব্যালট পেপার কেড়ে নেওয়ার বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হচ্ছে।’

আজ মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল ৮টায় খুলনায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।



১০:৩৫ সকাল:

ভ্যানে চড়ে ভোট দিতে এলেন হানিফ

মঙ্গলবার সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। উৎসাহ, উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে খুলনার ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। এদেরই একজন হানিফ মোল্লা (৫০)। কোমরের হাড় ভাঙা বলে তিনি হাঁটা-চলা করতে পারেন না। তাই বলে ভোট না দিয়ে থাকতে পারেননি। তিনিও ভোট দিতে এসেছেন, ভ্যানে চড়ে।

নগরীর ১৮ নম্বর ওয়োর্ডের তালিমুল মিল্লাত মাদ্রাসা কেন্দ্র ভোট দিয়েছেন হানিফ। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্ট তিনি।

এদিকে, ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টায় ২০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের খুলনা কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার তুষার কান্তি রায় জানান, তার কেন্দ্রে মোট ভোটের ২০ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। একই কথা জানিয়েছেন পল্লী মঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অমল কুমার।


১০:২৫ সকাল:

ভোট দিতে ঢাকা থেকে খুলনায় সাবেক ফুটবলার আসলাম

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ভোট দিতে ঢাকা থেকে খুলনা এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার শেখ মো. আসলাম। তিনি সকাল পৌনে ১০টার দিকে ১৯ নম্বর খুলনা কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।


১০:০০ সকাল:

বাড়ছে ভোটার উপস্থিতি, নারীরাই বেশি

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। সকালে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এখন পর্যন্ত নারী ভোটারের সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে।


০৯:৩০ সকাল:  

ভোট দিলেন খালেক ও মঞ্জু

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক এবং বিএনপি’র মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই তারা ভোট দেন।

টানা ২১ দিনের প্রচার শেষে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল ৮টায় মহানগরীর ভোট কেন্দ্রগুলোয় একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ হবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।


ভোটগ্রহণ শুরুর অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রগুলোর সামনে ভিড় জমতে থাকে ভোটারদের। নারী-পুরুষরা আলাদা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন ভোটকেন্দ্র খোলার। তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের এ সিটির নির্বাচনে দেশের  উন্নয়ন ও গণতন্ত্র ইস্যুটি চাঙ্গা রয়েছে। আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ইস্যুতে নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে চায়। আর বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। উন্নয়ন ও গণতন্ত্র ইস্যুতে জয়-পরাজয়ের নির্বাচন আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

খুলনায় সিটিতে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের বছরে এ ভোট এমনিতেই বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। তারওপর দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়াতে খুলনায় বিরাজ করছে ভিন্ন আবহ। সংসদ নির্বাচনের দিকে চোখ রেখে মেয়রের চেয়ার জয়ে লড়াই করা বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্য এ নির্বাচন হয়ে উঠেছে প্রেস্টিজ ইস্যু।

বড় দুটি দলের দুই মেয়র পদপ্রার্থীই জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। তারা দুজনেই বারবার বলে আসছেন, খুলনা মহানগরবাসী তাদের মেয়র নির্বাচিত করবেন। নির্বাচনি প্রচারের দিনগুলোয় তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনারও কমতি ছিল না। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছিল প্রায় প্রতিদিনই। বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী গত কয়েকদিন পুলিশের বিরুদ্ধে তার কর্মী-সমর্থকদের গণগ্রেফতারের অভিযোগও তুলেছেন।

গত ২৩ এপ্রিল থেকে দিনরাত এক করে মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা ছুটেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। কোথায় দেখা মেলেনি তাদের! বাসাবাড়ি, হাট বাজার, দোকানপাট, অলিগলি, রাজপথ, বস্তি থেকে দালানকোটা–সবখানে ছুটেছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণির ভোটারের মন জয়ে তাদের প্রাণান্তকর চেষ্টা মহানগরীকে মাতিয়ে রেখেছিল গত তিন সপ্তাহ। স্লোগান-মিছিলের শহরে পরিণত হওয়া খুলনা নগরী ছেয়ে গেছে পোস্টার ব্যানারে।

নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন— আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনীত এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাত পাখা) ও সিপিবি মনোনীত মো. মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)।

এছাড়া, ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ভোটার চার লাখ ৯৩ হাজার ৯২ জন। এরমধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৫ ও নারী দুই লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।

ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি। ভোটকক্ষ এক হাজার ৫৬১টি। আর অস্থায়ী ভোটকক্ষ ৫৫টি। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ২৩৪টিকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। দুটি কেন্দ্র–মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পিটিআই কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে।

প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার রয়েছেন চার হাজার ৯৭২ জন। এ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক থাকছেন ২১৯ জন। এর মধ্যে ৪/৫ জন বিদেশি, ৩৫ জন নির্বাচন কমিশনের, ১৭৯ জন বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষক।

নগরীতে ১৬ প্লাটুনে ৬৪০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার রাত থেকে তারা নগরীতে টহল দেওয়া শুরু করেন। জোরদার টহল রয়েছে র‌্যাব ও পুলিশের। গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরাও সক্রিয় রয়েছেন। আজ ৩২টি টিমে বিজিবি ও ৩১টি টিমে র‌্যাব সদস্যরা টহল দেবেন।

নির্বাচনের দিন ২৮৯ কেন্দ্রে ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ২৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের প্রতিটিতে আনসার ও পুলিশ মিলিয়ে ১৪ জন এবং বাকি কেন্দ্রগুলোতে ১২ জন করে সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর গঠিত কেসিসিতে এটি ষষ্ঠ নির্বাচন। সবশেষ ২০১৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত তালুকদার আব্দুল খালেককে পরাজিত করে মেয়র হয়েছিলেন বিএনপির নেতা মনিরুজ্জামান মনি। তার আগে ২০০৮ সালে মেয়র হয়েছিলেন তালুকদার আব্দুল খালেক। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও মেয়র পদে লড়তে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন আব্দুল খালেক।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া তার দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সবকিছুই এবারের ভোটের হিসেবে আনছেন ভোটাররা।

গত ৩১ মার্চ কেসিসি তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয় ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। ১৫-১৬ এপ্রিল হয় যাচাই-বাছাই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ২৩ এপ্রিল। এদিন আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামেন প্রার্থীরা।

51
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail