• বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

সড়কে নদীর ঢেউ

  • প্রকাশিত ০৯:৫০ রাত মে ২৩, ২০১৮
waterlogging-1527090309429.jpg

বুধবার (২৩ মে) সকালে শুরু হওয়া বৃষ্টি দুপুরের অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু বিকালেও নগরীর বেশির ভাগ সড়ক থেকে পানি সরে যায়নি। বৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি এলাকা যেন পরিণত হয়েছে ছোট ছোট নদীতে। কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর পানিতে সয়লাব। যানবাহন চলতে গেলেই সৃষ্টি হচ্ছে ঢেউয়ের পর ঢেউ। জমে থাকা বৃষ্টির পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে যানজটের সারি। পানিতে না ভিজে সড়ক পারাপারের কোনও উপায় নেই। যানজটের কারণে ২০ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করতে সময় লাগছে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার বেশি।

বুধবার সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পল্লবী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, তালতলা, কাজীপাড়া, শেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও, দারুস সালাম, ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা ও বিমানবন্দর এলাকা এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ধানমন্ডি-২৭, হাজারীবাগ, শংকর, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোড ও শান্তিনগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকায় যারা ঘর ছেড়ে কাজে বাইরে বের হয়েছেন, তাদেরকে সীমাহীন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। মিরপুর ১০ নম্বর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সড়কটি যেন একটি ছোটখাটো নদী। পুরোসড়কে হাঁটু থেকে কোমর পরিমাণ পানি জমে গেছে। পানিতে ডুবে থাকা সড়কের মধ্য দিয়ে যখন যানবাহন চলছে, তখন সড়কজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে ঢেউ।

বুধবার দুপুরে কাজীপাড়া সড়কের দৃশ্যমিরপুরগামী বিহঙ্গ পরিবহনের চালক খোরশেদ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগারগাঁও থেকে মিরপুরগামী সড়কটি ঢাকার দুঃখে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে অল্প বৃষ্টি হলেই পুরোরাস্তাটি সাগরে পরিণত হয়। বর্তমানে মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজের জন্য রাস্তা সংকোচিত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণে যানজটও অসহনীয় হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ২০ মিনিটের এই সড়কটি পার হতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। 

সকালে মিরপুরের কাজীপাড়া এলাকায় দেখা গেছে, জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে ঢেউ উঠছে। যানবাহনগুলো সতর্কতার সঙ্গে ধীরে ধীরে গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করছে। সিএনজি, রিকশাসহ অন্যান্য গণপরিবহন খুবই কম। দুই-একটি পাওয়া গেলেও ভাড়া অনেক বেশি। এ অবস্থায় অনেকেই হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। এর মধ্যে কাজীপাড়া এলাকায় পানির মধ্যে চলতে গিয়ে একটি প্রাইভেট কার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মিরপুর-১০ থেকে কাজীপাড়া পর্যন্ত রাস্তায় যানজট দেখা দেয়।  

ড্রেনের ঢাকনা খুলে পানি অপসরণের চেষ্টাহিমাচল পরিবহনের যাত্রী ইলিয়াস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,   রামপুরা ব্রিজ থেকে সকাল ৯টায় হিমাচল পরিবহনে এই বাসে উঠেছি। বেলা ১২টায় মীরপুর ১০ নম্বর পৌঁছেছি। পুরোসময়ের মধ্যে শুধু আগারগাঁও থেকে মিরপুর ১০ নম্বরে আসতে সময় লেগেছে দুই ঘণ্টা। পুরোরাস্তায় যেমন পানি ঠিক তেমিই যানজট।

এদিকে, রাস্তার পাশের আবর্জনা পানির সঙ্গে মিশে সৃষ্টি হয়েছে প্রকট দুর্গন্ধ। আবার পানি ঠেলে যানবাহন চলাচলের সময় সৃষ্ট ঢেউ ফুটপাতে অপেক্ষমাণ যাত্রী ও পথচারীদের ভিজিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া, ঢেউ এসে  ফুটপাত অতিক্রম করে আঁছড়ে পড়ছে আশপাশের বিভিন্ন দোকানেও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, শেরেবাংলা নগর, দারুস সালাম, মিরপুর, পল্লবী, ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা ও বিমানবন্দর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এসব এলাকায় কাজ শুরু হবে। বর্তমানে অন্যান্য উন্নয়ন কাজের কারণে বৃষ্টি হলে এই এলাকাগুলোতে একটু জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

দুই সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর ১৩টি স্থানের জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এছাড়া, প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত খালগুলো খনন ও প্রশস্ত করে তীর উন্নয়ন এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে খালের দুই তীরের পরিবেশ উন্নত করা হবে। এজন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও খাল উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে।

জানা গেছে, খাল খননসহ পানি নিষ্কাশন সংক্রান্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫৫০ কোটি টাকা। এ বছর থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াসা।

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সকালে (বুধবার) বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধা দেখা দিয়েছে।  সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের মাঠে নামিয়ে দিয়েছি। তারা সড়কের বিভিন্ন ম্যানহোল ও ড্রেন উন্মুক্ত করে দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ডিএসসিসি এলাকার কোথাও এখন জলাবদ্ধতা নেই।