• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪১ দুপুর

জামিন পেয়েছে শীর্ষ জঙ্গি হুমায়ারা ওরফে নাবিলা

  • প্রকাশিত ১১:৪৮ রাত জুন ১৩, ২০১৮
jmb-nabila-1528911940683.jpg
হুমায়ারা ওরফে নাবিলা। জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করে সিটিটিসি

আড়াই মাস না হতেই জামিন পেয়েছে নব্য জেএমবির সিস্টার উইংয়ের সাবেক প্রধান নারী জঙ্গি হুমায়ারা ওরফে নাবিলা। গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন হয় তার। বুধবার (জুন ১৩) সন্ধ্যায় কাশিমপুরের মহিলা কারাগার থেকে তার মুক্তি পাওয়ার কথা। উল্লেখ্য, শীর্ষ নব্য জেএমবি জঙ্গি তানভির ইয়াসিন করিমের স্ত্রী এই হুমায়ারা।

হুমায়ারা ও তার স্বামীর আর্থিক সহযোগিতায় ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বোমা হামলা চালিয়ে মন্ত্রী-এমপিসহ শতাধিক মানুষ হত্যার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা। কিন্তু পুলিশি তৎপরতায় ব্যর্থ হয়ে যায় সে পরিকল্পনা। ব্যর্থ হয়ে পান্থপন্থের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিহত হয় সাইফুল নামের এক জঙ্গি।

পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল রাজধানীর সিদ্ধেশরী থেকে গ্রেফতার হয় হুমায়ারা। প্রথমদিকে হুমায়ারা তার এক বান্ধবীর মাধ্যমে জঙ্গিবাদের ধারণায় প্রভাবিত হন বলেই জানিয়েছেন ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)-এর কর্মকর্তারা। 

নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ শেষ করে, হুমায়ারা মালয়েশিয়ার লিংকন ইন ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করতে যান এবং সেখানেই তার পরিচয় হয় নব্য জেএমবির শেষ আমির হিসেবে দায়িত্বরত আকরাম হোসেন নিলয়ের সঙ্গে। পরবর্তীতে দেশে ফিরে নব্য জেএমবির সিস্টার উইং নামে একটি শাখা তৈরি করে তারা।

সিটিটিসি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাংগঠনিক পরিচয়ে বিয়ের পর থেকে স্বামী তানভীরের সঙ্গে জঙ্গি কার্যক্রম শুরু করেন হুমায়ারা। ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর জঙ্গি তানভীর গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখে এই নারী জঙ্গি। নব্য জেএমবিদের মধ্যে ব্যাট উইমেন হিসেবে পরিচিত পায় হুমায়ারা। এমনকি সাংগঠনিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাট উইমেন নামটি ব্যবহার করত হুমায়ারা।    

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিটিটিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর কয়েক দফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল হুমায়ারাকে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সব কিছু স্বীকার করলেও আদালতে বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে রাজি হয়নি সে। তবে সাক্ষী হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন তার এক খালাতো ভাই।  

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, শীর্ষ ও দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা এভাবে জামিনে বের হয়ে গেলে জঙ্গিবাদ কার্যক্রম কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না।