• বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৬, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৭ দুপুর

দেরিতে চালের আমদানি শুল্ক, কাজে আসবে না কৃষকের

  • প্রকাশিত ০৪:৫৩ বিকেল জুন ১৫, ২০১৮
bigstock-179513236-690x450-1529059952668.jpg

আমদানী শুল্কের কারণে এখন দেশে চাল আমদানি প্রায় শূণ্যের কোঠায় আসবে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই, তবে যে কৃষকের সুবিধার জন্য এটা করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে তা হবার কোন সম্ভবনা একেবারে অনুপস্থিত

বিদেশ থেকে চাল আমদানীর ক্ষেত্রে দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশিত আমদানী শুল্ক পুনরায় আরোপের ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী তাঁর আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায়। আর এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই খুচরা বাজারে চালের দাম বেড়ে গেল কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা।

যদিও বাজার সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন শতকরা ২৮ ভাগ আমদানী শুল্ক বসানোর সাথে এই দাম বাড়ার কোন সম্পর্ক নেই। বরং এটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর কারসাজি। আর এভাবে খুব বেশি দাম বাড়িয়ে সুবিধাও করা যাবে না বেশি দুর। 

কারণ হিসেবে বলা যায়, সদ্য শেষ হওয়া বোরো এবং শেষ আমন মৌসুমে ভাল উৎপাদন এবং প্রায় গত এক বছরে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত চাল আমদানি। 

“এই মুহুর্তে যে ২/৩ টাকা কেজি প্রতি বেড়েছে সেটা স্বাভাবিক। যারা গত কয়েক মাসে আমদানিতে টাকা ঢেলেছে তারা এই সুযোগে এই লাভ করতে চাইবে। তবে এর বেশি আর কিছু হবে না। কারণ বাজারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চালের যোগান আছে”, বলছিলেন নওগাঁ চাল আড়তদার সমিতির আহ্বায়ক নিরোদ বরন সাহা। 

হাওড় অঞ্চলে আগাম বন্যা আর ধানের মড়কের কারণে গত বছর দেশে বোরো ধানের উৎপাদন কম হয় প্রায় ২০ লাখ টন। এর ফলশ্রতিতে গত বছর আগস্ট মাস থেকে বাজারে চালের দাম বেড়ে যায় কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪২ টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে কেজি প্রতি প্রায় ১০ টাকা বেশি।

উদ্বৃত্ত আমদানী

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার চাল আমদানির ওপর বসানো শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। 

বিদেশের বাজার, বিশেষ করে ভারতে চালের বাজার কম আর আমদানিতে বিনা শুল্ক আগ্রহী করে তোলে বেসরকারি পর্যায়ের আমদানিকারকদের। তারা চাল আমদানি করতে থাকে বানের জলের মতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের মে মাস পর্যন্ত- নয় মাসে দেশে চাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৪৫ লাখ টন চালের। যার ৩৯ লাখ টনই ইতোমধ্যে দেশে চলে এসেছে। 

এদিকে কৃষি মন্ত্রনালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া বোরো মৌসুমে দেশে ধানের উৎপাদন হয়েছে এক কোটি বিরানব্বই লাখ টন। এ পরিমাণ চাল দিয়ে আগামি আমন মৌসুমের ধান বাজারে আসা পর্যন্ত দেশ অনায়াসে চলতে পারবে বলে সরকারের বিশ্বাস।

এখন আমরা যদি আমদানিকৃত ৪৫ লাখ টন থেকে গত বছরের কম উৎপাদিত ২০ লাখ টন বাদ দিই, তাহলে দেশে এই মুহূর্তে উদ্বৃত্ত চালের পরিমাণ ২৫ লাখ টন। 

অতি বিলম্বিত উদ্যোগ

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, এখন থেকে দেশে চাল আমাদনীর উপর ২৮% শুল্ক আরোপ করার কথা। এবং সেটা করেছেন কৃষকরা যাতে ভাল দাম পান এটা মাথায় রেখে।

যদিও বছরের এই সময়ে এবং এতো বিশাল পরিমাণ বাড়তি চাল আমাদনির পরে সরকারের এ উদ্যোগ কৃষকদের কোন উপকারে আসবে না বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্ট অনেকে। 

বিষয়টি নিরোদ বরন সাহা ব্যাখ্যা করছিলেন এভাবে, “আমদানী শুল্কের কারণে এখন দেশে চাল আমদানি প্রায় শূণ্যের কোঠায় আসবে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই, তবে যে কৃষকের সুবিধার জন্য এটা করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে তা হবার কোন সম্ভবনা একেবারে অনুপস্থিত।”

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে দেশের বাজারে ধানের দাম মন প্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা যা গত বছরের এই সময়ের চেয়ে ১০০ টাকা কম। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার ফলে ধানের দামও বেড়ে যাবে। কিন্তু দেশের প্রান্তিক চাষীদের ঘরে এখন কোন ধান পাওয়া যাবে না। কারণ এতদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোন সামর্থ তারা রাখে না। কাজেই লাভটা যাবে ধনী চাষী এবং ব্যবসায়ীদের ঘরে।