• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৬ রাত

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরে পেতে সহযোগিতার আশ্বাস জাতিসংঘ মহাসচিবের

  • প্রকাশিত ০৮:৫১ রাত জুলাই ২, ২০১৮
cox-un-rohingya-news-pic-1
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে রোহিঙ্গা নারী ও রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকে ১শ’জন রোহিঙ্গার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলেছেন এ প্রতিবেদক।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। আজ সোমবার সারাদিন উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্প, মধুরছড়া, কুতুপালং রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পের ডি-৪ ও ডি-৫ ব্লকের রোহিঙ্গাদের সাথে সময় কাটিয়েছেন। এসময় তারা মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। এসময় ইউএনএফপিএ-এর নারী কেন্দ্রে ২৩ জন নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী ও রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকে ১শ’জন রোহিঙ্গার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলেছেন এ প্রতিবেদক।

এসময় রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষেরা জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমকে মিয়ানমারের রাখাইনে সে দেশের সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। একই সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, রাখাইনে নাগরিকত্ব সহ নানা অধিকারের কথা জানান তারা। উত্তরে জাতিসংঘের মহাসচিব রোহিঙ্গাদের ধৈয্য ধরার পরামর্শ দেন এবং যে কোন মূল্যে তাদের নাগরিকত্ব সহ নানা অধিকার ফিরে পাবার ব্যাপারে সান্তনা দেন।

অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন রোহিঙ্গা নারী জোহুরা বেগম (৪৫)। তিনি বলেছেন, ‘আমি জাতিসংঘের মহাসচিবের সাথে কথা বলার সময় কিছু দাবি দাওয়া রেখেছি। এর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে রাখাইনে শান্তি বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে, মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্ব সহ একটি রাষ্ট্রের সব সুযোগ সুবিধা প্রদান। উত্তরে মহাসচিব আমাকে সান্তনা দিয়ে বলেছেন, জাতিসংঘ সব সময় রোহিঙ্গাদের পক্ষে আছে এবং থাকবে। এজন্য আমাদের একটু ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দেন’।

আরেক রোহিঙ্গা নারী রাজিয়া বেগম (৪০) বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনের সেনা বাহিনীর বর্বর নির্যাতনের কথা বলেছি। তিনি (অ্যান্তোনিও) সব কথা শুনে আমাদের নাগরিকত্ব, নিরাপদ প্রত্যাবাসন সহ রোহিঙ্গাদের সব অধিকার ফিরিয়ে দিতে কাজ করছে বলে জানান। তারা মিয়ানমার সরকারকে প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। এজন্য খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারব বলে আশ্বস্ত করেন’।

শুধু জোহুরা বেগম ও রাজিয়া বেগম নয়, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ডের সাথে কথা বলেছেন, রোহিঙ্গা নারী ইয়াসমিন, ফাতেমা বেগম ও ফরিদা বেগম সহ ২৩জন নারী। এরা প্রত্যেকের সাথে পরিচয় জানতে চেয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট  সংক্ষেপে কথা বলেছেন। তারা দুইজনই রোহিঙ্গাদের সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সান্তনা দিয়েছেন’।

কুতুপালং ডি-৫ ব্লকে ‘আইওএম’র হেল্থ কেয়ারে কথা হয় রোহিঙ্গা যুবক আবু সৈয়দ (৩৫)। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ‘ইউএনএইচসিআর’ এবং মিয়ানমারের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে এ নিয়ে কথা বলেছি জাতিসংঘের মহাসচিবের সাথে। তাকে আমরা বলেছি, উক্ত চুক্তির মধ্যে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সহ পুরো অধিকারের কথা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে করে রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে গেলেও পুনরায় নানা নির্যাতনের শিকার হতে হবে। উত্তরে- জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, তোমাদের অধিকার যাতে সম্পূর্ণভাবে ফিরে পাওযা যায় সে ব্যবস্থা করছি। এসব বিষয় গুলো সব ঠিক হয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন’। 

আবু সৈয়দেও মতো অনেকেই জানিয়েছেন, জাতিসংঘের মহাসচিবের সাথে আমরা খোলামেলা কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। এতে করে তারা তাদের অধিকারের কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের যে সান্তনা দিয়েছেন এতে তারা নতুন করে আশায় বুক বেধেছেন।

 উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমকে সাথে নিয়ে আজ সোমবার সকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের জন্য কক্সবাজারে আসেন। উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে পৌঁছেন। সেখান থেকে একই ক্যাম্পের এক্সটেনশন-৪, নিবন্ধিত সি-ব্লক ও ডি-৫ ব্লকের বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এসময় তারা মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। আজ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। ঢাকায় ফিরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার রেডিসন হোটেলে প্রেস ব্রিফিং করার কথা রয়েছে তাদের।