• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৬ দুপুর

চুরি করা খাসিতে পুলিশের ভূড়ি ভোজ

  • প্রকাশিত ০২:১১ দুপুর জুলাই ৪, ২০১৮
web-bigstock-young-black-bengal-goat-with-r-240209764-1530615427828-1530691613564.jpg
ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের নমুনা। ছবি: বিগস্টক

গোপালগঞ্জে কোটালীপাড়া উপজেলার ভাঙ্গারহাট পুলিশ নৌতদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চুরি করা খাসির মাংস দিয়ে উদরপূর্তির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনগণ।

গত ২ জুন রাতে কোটালীপাড়া উপজেলার পীড়ারবাড়িতে নাইট ডিউটিতে বাজার এলাকা পরিদর্শনে যান ভাঙ্গারহাট পুলিশ নৌতদন্ত কেন্দ্রের এস.আই আলী আকবর, কনস্টেবল তুরাব আলী ও সোহেল। 

ওই বাজারে পীড়ারবাড়ি গ্রামের রুহিদাস হালদারের চুরি হয়ে যাওয়া খাসি বেঁধে রেখেছিলো পাহারাদাররা। পুলিশের নজরে পরলে তারা খাশিটি বেঁধে একটি থ্রি-হুইলারে করে তুলে নিয়ে যান।

পরে সুবিধামতো সময়ে পুলিশ সেখানে খাসিটি জবাই করে মাংস দিয়ে ভূড়িভোজ করে বলে জানিয়েছেন বাজারের পাহারাদাররা। বিষয়টি ১৫ জুন জানাজানি হয়ে গেলে পুলিশ একটি খাসি কিনে পীড়ারবাড়ী বাজার কমিটির সভাপতি নীতিশ হালদারের মাধ্যমে খাসির মালিক রুহিদাস হালদারকে জোর করে বুঝিয়ে দেন।  

তবে খাসিটি নিজের না হওয়ায় তা গ্রহন করেননি তিনি। পরে বাজার কমিটি সালিশ বসিয়ে এ ঘটনায় বজারের পাহারাদার দুলাল হালদার, শংকর হালদার ও প্রসেনজিৎ বৈদ্যর বিরুদ্ধে খাসি চুরির অভিযোগ এনে তাদের ৪ হাজার টাকা জরিমানা করে। জরিমানার টাকা খাসির দাম হিসেবে মালিক রুহিদাস হালদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

রুহিদাসকে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রদান করা খাসিটি নীতিশের বাড়িতেই প্রতিপালিত হচ্ছে।

খাসির মালিক দিন মজুর রুহিদাস হালদার বলেন, “গত ২ জুন রাতে আমার খাসিটি বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যায়। পরে ১৫ জুন বাজারের পাহাদারদের মাধ্যমে জানতে পারি তারা আমার খাসিটি পুলিশকে দিয়ে দিয়েছে। পুলিশ এ অপরাধ থেকে বাঁচতে আমাকে নৌ-তদন্ত কেন্দ্রে ডেকে পাঠায়। কেন্দ্রর এস.আই জোর করে আমাদেরকে একটি খাসি গছিয়ে দেন। এটি আমার হারিয়ে যাওয়া খাসি ছিলোনা। এছাড়া এ খাসি নিলে পুলিশ আমার বিরুদ্ধে চুরি মামলা করতে পরে। এ আশংকায় আমি  খাসি নিতে অপরাগতা প্রকাশ করি।” 

তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে থানা থেকে বলা হয়েছে তারা ওই রাতে ডিউটিতে গিয়ে একটি খাসি গাড়িতে তুলে আনি। পরে ওই বাজারে রাতে একটি  খাসি পাওয়া গেছে বলে প্রচার করি। কিছু দিনপর খাসির মালিক রুহিদাসকে খুঁজে পেয়ে তার কাছে বাজার কমিটির মাধ্যমে খাসিটি হস্তান্তর করি। আমরা খাসি জবাই করে খায়নি।

ভাঙ্গারহাট পুলিশ নৌ-তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, “খাসির বিষয়টি আমার জানানেই। তবে ওই রাতে এস.আই  আলী আকবর, কনস্টেবল তুরাব আলী ও সোহেল নাইট ডিউটিতে পীড়ারবাড়িতে গিয়েছিলেন বলে অফিসে রেকর্ড রয়েছে।”