• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৭ রাত

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলায় নিন্দা ও হামলাকারীদের বিচারের দাবী

  • প্রকাশিত ১২:৫৪ দুপুর জুলাই ৫, ২০১৮
quota-reform-protesters-are-assaulted-allegedly-by-bangladesh-chhatra-league-activists-on-the-central-shaheed-minar-premises-on-monda-1530518751412.jpeg
হামলার শিকার হয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলায় নিন্দা ও বিচারের দাবী জানিয়েছেন অধ্যাপক, গবেষক, এ্যাডভোকেট, সাংবাদিক, উন্নয়ন কর্মীসহ নানা পেশার সচেতন নাগরিকবৃন্দ।

আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবীতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকের উপর নির্বিচার শারীরিক আক্রমণ ও লাঞ্ছনার ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ করছি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিসহ তথ্যে এটি স্পষ্ট যে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগের নেতা কর্মীরা এই আক্রমণের ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। একটি ন্যায়সংগত দাবীতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর এসব আক্রমণ অমানবিক, নিন্দনীয়, বেআইনি এবং সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। 

শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রদানের পরিবর্তে তাদের উপর আক্রমণের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে তা তাদের উপর অর্পিত আইনগত দায়িত্বের গুরুতর বরখেলাপ। এসব হামলায় আহতদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করার এবং আক্রমনের শিকার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের ঘটনাসহ মঙ্গলবার উদবিগ্ন অভিভাবকদের ডাকে প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশের উপর পুলিশের হামলা সমাজে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। 

উল্লেখ্য যে, কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবী নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের যৌক্তিক দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলের পাশাপাশি কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক সংগঠনগুলোও গণমাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করেছিলেন। এক পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিল ঘোষণা করেন, আন্দোলনকারীদের যদিও দাবী ছিল সংস্কারের, বাতিলের নয়। তথাপি তারা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি আস্থা জানিয়ে আন্দোলন স্থগিত রেখেছিল। কিন্তু এরপর দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও সরকারের তরফ থেকে কোন প্রকার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে কোটা সংস্কারের জন্য দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবীতে শিক্ষার্থীদের সাংবাদিক সম্মেলনের প্রস্তুতি ও পরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের উপর নৃশংস হামলা অত্যন্ত কাপুরুষচিত ও অসাংবিধানিক একটি ঘটনা বলে আমরা মনে করি। 

আমরা শিক্ষার্থীসহ সকল মানুষের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও আন্দোলনের এবং বাক-স্বাধীনতার অধিকার রক্ষার্থে সরকারকে তার সাংবিধানিক দায়দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার সাথে জড়িতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের দাবী জানাচ্ছি। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের নিপিড়ন মূলক ৫৭ ধারা সহ বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবী করছি। একই সাথে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে তাদের পেশাগত দায়িত্ব আন্দোলনকারীদের সাংবিধানিক অধিকার চর্চায় সহায়ক ভূমিকা পালন করা, অবৈধ হামলাকারীদের প্রশ্রয় ও সুরক্ষা প্রদান নয়।  

কোটা সংস্কারের লক্ষে কমিটি গঠনকে আমরা স্বাগত জানাই। এই কমিটির মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে শুধুমাত্র সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য যৌক্তিক মাত্রায় কোটার ব্যবস্থা রেখে অবিলম্বে কোটা সংস্কারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। আমরা মনে করি এসব ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়েই কোটা নিয়ে সমাজে বিরাজমান বর্তমান অস্থিরতার নিরসন করা সম্ভব। কমিটি তার কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করবে এবং সরকার তার ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে কোটা সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে- আমরা এই প্রত্যাশা করি। 


অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (এমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ড. হামিদা হোসেন (সভাপতি, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম), রাশেদা কে. চৌধুরী (শিক্ষা উন্নয়ন কর্মি), সৈয়দ আবুল মাকসুদ (লেখক), ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (স্বাস্থ্য আন্দোলন কর্মি), এম হাফিজুদ্দীন খান (সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক), অধ্যাপক ড. আহমেদ কামাল (হনারারী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ড. শাহদীন মালিক (আইনজ্ঞ), অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুল হক (আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), এ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান (পরিবেশ আইনবীদ), মাহীন সুলতান (নারী আন্দোলন কর্মি), ফারাহ কবির (উন্নয়ন কর্মি), অধ্যাপক ড. ফিরদৌস আজীম (ইংরেজি সাহিত্য বিভাগ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়), রেহনুমা আহমেদ (লেখক ও কলামনিস্ট), ড. শহীদুল আলম (আলোকচিত্রী), ড. ইফতেখার উজ্জামান (নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ), লুবনা মরিয়ম (শিল্পি ও পরিচালক, সাধনা), রেজাউল করিম চৌধুরী (উন্নয়ন কর্মি), অধ্যাপক ড. আমেনা মোহসিন (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ড. সাঈদিয়া গুলরুখ (সাংবাদিক), অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের (আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), এ্যাডভোকেট সিনথিয়া ফরিদ, রেজাউর রহমান লেনিন (শিক্ষক, ইষ্ট ওয়েষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়), ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মহিউস সুন্নাহ, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা (গবেষক), ড. বদিউল আলম মজুমদার (সম্পাদক, সুজন), ড. স্বপন আদনান, (অর্থনীতিবিদ), অধ্যাপক ড. সি আর আবরার (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), খুশী কবির (উন্নয়ন কর্মী), মুক্তাশ্রী চাকমা (অধিকার কর্মী ও গবেষক), ড. সেউটি সবুর (শিক্ষক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়), মোহাম্মদ নূর খান (মানবাধিকার কর্মী), ব্যারিস্টার ড. মনজুর হাসান (নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর পীস এন্ড জাস্টিস, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়), সৈয়দ সুলতানুদ্দিন আহমেদ (নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ), ড. মালেকা বেগম (গবেষক), ব্যারিস্টার জ্যেতির্ময় বড়ুয়া, ফরিদা আখতার (উন্নয়ন কর্মী), হানা শামস আহমেদ (মানবাধিকার কর্মী), তারিক ওমর চৌধুরী (লেখক ও অনুবাদক), অরূপ রাহী (লেখক ও সঙ্গীত শিল্পী), অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা (আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), শাহীন আনাম (উন্নয়ন কর্মী), আদিলুর রহমান খান (মানবাধিকার কর্মী), আসমা হক (প্রকৌশলী), ফেরদৌসি সুলতানা বেগম (সমাজ উন্নয়ন উপদেষ্টা), ড. ফজিলা বানু লিলি (উন্নয়ন কর্মী), অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল (আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), জাকির হোসেন (উন্নয়ন কর্মী), ব্যারিস্টার সারা হোসেন (মানবাধিকার কর্মী), শিরীন প. হক (নারী আন্দোলন কর্মী)