• বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪২ রাত

ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেল দুই পুলিশ

  • প্রকাশিত ০৬:৫৭ সন্ধ্যা জুলাই ১৩, ২০১৮
yaba-manikganj-1531486141007.jpg
হাসেম আলীকে ধরে তার পকেটে দুটি ইয়াবা ঢুকিয়ে দেয়। ছবি:সংগৃহীত

উত্তেজিত জনতা এক পর্যায়ে দুই পুলিশকে মারধর করতে উদ্যত হলে স্থানীয় বলধরা ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য ইদ্রিস আলী-সহ কয়েকজন বাঁধা দেয়।

হাসেম আলী নামের এক দিনমজুরকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রামবাসী অবরুদ্ধ করে রাখে। ঘটনাটি ঘটে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার ছোট কালিয়াকৈর বাজার এলাকায়। দুই ঘন্টা আটক থাকার পর থানা থেকে পুলিশ এসে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

গ্রামবাসীর অভিযোগ সিঙ্গাইর থানার এস আই মানিক এবং কনস্টেবল জাহিদ একটি মোটর সাইকেলযোগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বলধরা ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর নতুন বাজার এলাকায় আসে। ওই বাজারের কহিনুর ইসলামের কসমেটিকের দোকানের সামনে থেকে সাদা শার্ট ও লুঙ্গি পড়া দিনমজুর হাসেম আলীকে ধরে তার পকেটে দুটি ইয়াবা ঢুকিয়ে দেয়। এরপর তাকে হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী  এলাকাবাসী তৎক্ষণাৎ এর প্রতিবাদ করে এবং  ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রায় দুই ঘন্টা ঘেরাও করে রাখে। উত্তেজিত জনতা এক পর্যায়ে তাদেরকে মারধর করতে উদ্যত হলে স্থানীয় বলধরা ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য ইদ্রিস আলী-সহ কয়েকজন বাঁধা দেয়।

খবর পেয়ে সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার ইমাম হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। এলাকাবাসীর সাথে দুই ঘন্টা আলোচনার পর তিনি ওই দুই পুলিশ সদস্যকে এলাকাবাসীর হাত থেকে মুক্ত করে থানায় নিয়ে যান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকার কতিপয় পুলিশের সোর্স পুলিশের সাথে পরস্পরের যোগসাজশে নিরীহ লোকদের মাদকের মামলায় আটক করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। আর এই টাকার ভাগ পায় ওই পুলিশের সোর্স। 

২২ বছর বয়সী দিনমজুর হাসেম আলী জানান, তিনি সন্ধ্যায় ওই বাজারে গিয়েছিলেন ফার্মেসী থেকে ঔষুধ কেনার জন্য। ঔষুধ কিনে বাড়ী ফেরার পথে বন্ধুদের সাথে গল্প করছিল। হঠাৎ করে ওই দুই লোক এসে তার লুঙ্গি এবং শার্ট ধরে টানাটানি করা শুরু করে। এরপর তার পকেটে জোড় করে কি যেন ঢুকিয়ে দেয়। এরপরই তারা বলে ওঠে ‘পকেটে দুটি ইয়াবা পাওয়া গেছে’। তিনি এর প্রতিবাদ করার সাথেসাথে এলাকাবাসীও তার সাথে প্রতিবাদ করে ওঠে।

 সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই দুই পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আটক ব্যক্তি একজন ভাল লোক। তথ্যদাতা পুলিশকে তার সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।