• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৯ রাত

ছাত্রলীগের মারধরে আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

  • প্রকাশিত ০৫:১৩ সন্ধ্যা জুলাই ১৫, ২০১৮
dhaka-university-1531653045649.jpg
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারধরে আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

বিষয়টি তদন্তে সূর্যসেন হল প্রশাসন তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মারধরে আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ও ছাত্রী। শনিবার (১৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে, হামলাকারীদের শনাক্ত করার স্বার্থে ওই দুই শিক্ষার্থী সূর্যসেন হলে গেলে, দ্বিতীয় দফা মারধরের শিকার হন তারা।

বিষয়টি তদন্তে সূর্যসেন হল প্রশাসন তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, মারধোরের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থী মল চত্বরে হাত ধরে দাঁড়িয়ে রিকশা খুঁজছিলেন। এ সময় সূর্যসেন হলের ১০-১২ জন ছাত্রলীগ কর্মী তাদের ঘিরে ধরেন এবং পরিচয় জানতে চান। তারা নিজেদের পরিচয়পত্র দেখান। পরে, ওই ছাত্র পরিচয় জানতে চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে মারতে শুরু করেন। ছাত্রীটি তাকে রক্ষা করতে গেলে, নিজেও মারধরের শিকার হন।

মারধরের শিকার ওই শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঘটনার পর হামলাকারীরা সূর্যসেন হলের ভেতরে চলে যান। পরে তারাও সেখানে গেলে দ্বিতীয় দফায় তিন-চারজন তাঁদের স্ট্যাম্প, লাঠিসোঁটা দিয়ে পেটান। এরপর হলের অতিথিকক্ষ থেকে তিনি প্রক্টর এবং হল প্রাধ্যক্ষকে ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ করেন। এ সময় প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী তাদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন, বলেই অভিযোগ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, প্রক্টর জানিয়েছেন, ওই ছাত্রী তাকে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ফোন দেন। তিনি ঘটনা শুনে ছাত্রীটিকে তার নিজ হল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে বলেন এবং নিজেও বিষয়টি সূর্যসেন হল প্রাধ্যক্ষকে জানান। ওই শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে প্রক্টরিয়াল বডির গাড়ি পাঠান বলেও জানান প্রক্টর।

রাত পৌনে ১০টার দিকে হলের প্রাধ্যক্ষ এ এস এম মাকসুদ কামাল ঘটনাস্থলে আসেন। ঘটনার বিবরণ শুনে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন তিনি এবং তাদেরকে হলে পৌঁছানো ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

আহত ওই ছাত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের ক্যাম্পাসে কেন আমাদের মারা হলো—শুধু সেটুকু জানতে চাই। আমরা দুজনই তৃতীয় বর্ষের। বিনা কারণে প্রথম বর্ষের ছাত্ররা আমাদের মারল। আমাদের ক্যাম্পাসে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?”

ঘটনাটি তদন্তে হলের আবাসিক শিক্ষক মো. তারিক জিয়াউর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।


সূত্র: প্রথম আলো