• শনিবার, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৮ বিকেল

মোবাইল চুরির অভিযোগে ১৫ গজ নাকে খত!

  • প্রকাশিত ০৮:৪২ রাত জুলাই ১৬, ২০১৮
nake-khoto-1531751208694.jpg
চুরির দায়ে নাকে খত। ছবি: সংগৃহীত

শিপনকে দোষী সাব্যস্ত করে বাড়ির উঠানে তাঁকে দিয়ে ১৫ গজ নাকে খত দেওয়ানো। তাঁকে চড়-লাথি মারা হয়। এ ছাড়া আড়াই লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়।

নড়াইলে মোবাইল চুরির অভিযোগে শিপন নামের এক যুবককে গুরু দণ্ড দেয়া হয়েছে। 

একটি সাধারণ ফোনসহ ১ হাজার ৮০০ ভারতীয় রুপি চুরির অভিযোগে শাস্তিস্বরূপ উঠানে ১৫ গজ জায়গায় নাকে খত দেওয়ানো হয় শিপনকে। এরপর  মারধর এবং আড়াই লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। সেইসাথে জরিমানার অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে বাড়িঘর বিক্রি করে টাকা আদায়, অন্যথায় গ্রামছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়।

গত শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে দুটি পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও গ্রাম্য মাতব্বরেরা নিজেরাই বিচারের দায়িত্ব পালন করেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল রোববার গভীর রাতে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। 

এলাকাবাসী জানান, গ্রাম্য মাতব্বর শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, গামা বিশ্বাস, বিশ্ব বিশ্বাস, মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস ও সুবুদ্ধি মজুমদার এ বিচারকাজ পরিচালনা করেন। এ সময় বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির ভাষ্য, গত বুধবার রাতে বিছালী ইউপি ভবনের সামনে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখানো হচ্ছিল। এ সময় ইউপি ভবনের পেছনে শৈলেন্দ্রনাথ সিকদারের বাড়ি থেকে একটি সাধারণ ফোনসহ ১ হাজার ৮০০ ভারতীয় রুপি চুরি হয়। একই গ্রামের শিপন রায় এ চুরি করেছেন—এমন অভিযোগে শনিবার বিকেলে শৈলেন্দ্রনাথ সিকদারের বাড়িতে সালিসি বৈঠক বসে। গ্রাম্য মাতব্বর গামা বিশ্বাস, বিশ্ব বিশ্বাস, মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, সুবুদ্ধি মজুমদারসহ বেশ কয়েকজন শিপনকে দোষী সাব্যস্ত করে বাড়ির উঠানে তাঁকে দিয়ে ১৫ গজ নাকে খত দেওয়ান। তাঁকে চড়-লাথি মারা হয়। এ ছাড়া আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে তা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ দিতে না পারলে বাড়ি থেকে গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগি, বাড়ি-ঘর বিক্রি করে টাকা আদায় করা হবে; অন্যথায় গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

শিপনের পিতৃহীন। কৃষিকাজ করে পরিবারের দেখাশোনা করেন। আর্থিকভাবে তাঁর পরিবার সচ্ছল। তাঁর নিজস্ব মোটরসাইকেলও রয়েছে। তার পক্ষে এ ধরণের চুরি করা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই তিনি গ্রাম্য রাজনীতির শিকার বলে কয়েকজন ধারণা করছেন।

ইউপি সদস্য মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনা শুনে সালিসি বৈঠকে উপস্থিত হই। বিষয়টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে জানাতে বা শিপনকে পুলিশের কাছে তুলে দিতে গ্রাম্য মাতব্বরদের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাঁরা আমার কথা শোনেননি। তাঁরা আমাকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলেন। আমি চলে আসি।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গতকাল রাতে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ ব্যাপারে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করার পরও শৈলেন্দ্রনাথ সিকদারের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।