• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪৪ দুপুর

স্বর্ণের চাকতি হয়ে গেল ধাতু

  • প্রকাশিত ০৩:৩১ বিকেল জুলাই ১৭, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৩ রাত জুলাই ১৭, ২০১৮
gold Bar
স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দেশটির দুই সেনা এবং তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে ভল্টে রাখা ৯৬৩ কেজি স্বর্ণ যাচাই করে গুরুতর অনিয়ম মিলেছে

মানুষের আস্থার নাম ব্যাংক। আস্থা যখন উল্টে ধুলোমাটি হয় তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস টুকু নেওয়ার জায়গা হারিয়ে ফেলে মানুষ। সকল ব্যাংকের নজর দারিতে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই বাংলাদেশ ব্যাংক যখন অনিয়মে প্রশ্নের সম্মুখীন হয় তখন নিরুপায় জনগন। 

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ৯৬৩ কেজি স্বর্ণ পরীক্ষা করে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। 

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট কাস্টম হাউসের গুদাম কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত একটি স্বর্ণের চাকতি এবং একটি কালো প্রলেপযুক্ত স্বর্ণের রিং বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেন।   

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চাকতি এবং আংটি পরীক্ষা করে ৮০ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দেয়। কিন্তু দুই বছর পর পরিদর্শন দল পরীক্ষা করে তাতে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ স্বর্ণ পায়।  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভল্টে থাকা স্বর্ণের চাকতি এবং আংটি পরীক্ষার পর দেখা গেল এগুলো স্বর্ণের নয়, অন্য ধাতুর মিশ্রনে তৈরি। এতে সরকারের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্ল্যেখ করা হয়।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বিষয়টি জেনে বিস্ময় সূচক ভাবে জানান, ‘এটি অকল্পনীয়। যারা কাস্টডিয়ান, তাদের হাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিস্মিতই হতে হয়’। 

ইব্রাহিম খালেদ আরও জানান, ‘ব্যাংকে কাজ করার সূত্রে আমি জানি, এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকেন হাতে গোনা কয়েকজন। পরিদর্শন প্রতিবেদনে যে তথ্য এসেছে, সে তথ্য থেকে ঘটনার সময় যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব বের হয়ে আসবে। ঘটনাটিকে ছোট ভাবার কারণ নেই। ভল্টের মতো উচ্চ গুরুত্বের জায়গায় এমন অনিয়মকে গুরুত্ব না দিলে আরও বড় ঘটনা ঘটতে পারে’।