• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ রাত

সুন্দরবনে বাড়ছে হরিণ শিকার

  • প্রকাশিত ০৬:৩৮ সন্ধ্যা জুলাই ২০, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৫ সন্ধ্যা জুলাই ২০, ২০১৮
সুন্দরবন

পুলিশ বলেছে, বন ডাকাত ও শিকারীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চলবে।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা সীমান্তে হরিণ শিকার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

জুলাই মাসে করা দুটি পৃথক অভিযানে বন বিভাগ এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দুজন শিকারী গ্রেফতার করে তিনটি মৃত হরিণ, তিনটি এক-নলা পিস্তল এবং একটি নৌকা উদ্ধার করে। কিন্তু কোথাও এই শিকারী চক্রের নেতাদের খুঁজে পাওয়া যায় নি। 

বন বিভাগের মতে, বন ডাকাতরা এখন তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয়, কিন্তু হরিণ শিকারীদের চক্রগুলোর উৎপাত সুন্দরবন ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আরও বেড়েছে। 

শ্যামনগর উপজেলার অনেক গ্রামে হরিণের মাংস নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে এবং যতদিন যাচ্ছে, এই প্রবণতা বেড়েই চলছে। অনেকেই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে খুশি মনে হরিণের মাংস কিনছে বলে জানান স্থানীয়রা।

তবে, বন বিভাগ জানিয়েছে, হরিণ নিধন এবং শিকারের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষের কাছে চিহ্নিত হরিণ শিকারী এবং মাংস ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা থাকার পরেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনোরকম ব্যবস্থাই গ্রহণ করছে না। উল্টো, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের বেশ কিছু কর্মচারীর সাথে এসব শিকারী চক্রের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, হরিণ শিকারীদের গডফাদার একজন স্থানীয় ধনকুবের এবং চিংড়ি ব্যবসায়ী। তিনি প্রায়শই নিজস্ব ট্রলারে করে হরিণ-শিকারে বের হন। এমনকি, হরিণ শিকারীদের কেউ গ্রেফতার হলে তিনি তাদের খোঁজ-খবরও রাখেন। 

 স্থানীয়রা জানান, ৯ই জুলাই সুন্দরবনের চুনকুড়ি এলাকায় হরিণ শিকারীদের একটি দল শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক ও বেশ কয়েকজন কনস্টেবল সহ হরিণ শিকারে যায়। 

সামাজিক মাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হবার পর শ্যামনগর থানার সাথে জড়িত ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। 

সাতক্ষীরা সীমান্তের বন কর্মকর্তা রফিক আহমেদের দাবি, বন বিভাগের কেউ ঘুষ গ্রহণ করে না। তিনি বলেন, "যদি কোনো প্রমান পাওয়া যায় তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে"।

বন কর্মকর্তা বলেন, "এলাকাটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে টহল বাহিনী বৃদ্ধি করা হয়েছে"। তিনি আরও জানান, "আমরা ইতোমধ্যে তিনটি মৃত হরিণ উদ্ধার করেছি এবং দুইজন শিকারীকে গ্রেফতারও করেছি।"

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মান্নান আলী বলেন, বন ডাকাতদের এবং শিকারীদের বিরুদ্ধে তাদের যে অভিযান চলছে তা চলতে থাকবে।