• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪২ সন্ধ্যা

ছাত্রলীগের হামলায় রক্তাক্ত মাহমুদুর রহমান

  • প্রকাশিত ০৯:৪৭ রাত জুলাই ২২, ২০১৮
web-mahmudur-rahman-edited-22-07-2018-1532263602352-1532274314588.jpg
কুষ্টিয়া জজ আদালতে প্রবেশের আগে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

রবিবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে কুষ্টিয়া জজ আদালতে চত্বরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় মাহমুদুর রহমানকে একটি এ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে দেয়। হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটিও ভাংচুর করে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশের সামনেই দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়েছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। হামলায় মাহমুদুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন। 

রবিবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে কুষ্টিয়া জজ আদালতে চত্বরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় মাহমুদুর রহমানকে একটি এ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে দেয়। হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটিও ভাংচুর করে। 

রবিবার বেলা ১২টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক এম,এম মোর্শেদ ১০ হাজার টাকা জামানতে মাহমুদুর রহমানকে স্থায়ীভাবে জামিন মঞ্জুর করেন। মাহমুদুর রহমানের সফর সঙ্গী বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান জানান, জামিন মঞ্জুর করার পর থেকে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আদালত চত্বরে মাহমুদুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখে।  

এ সময় তারা মাহমুদুর রহমানের বিচার চেয়ে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মাহমুদুর রহমান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক এম,এম মোর্শেদ’র এজালাস কক্ষে অবস্থান করেন। এর মধ্যে কয়েক দফায় এজালাস কক্ষ থেকে মাহমুদুর রহমান বের হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। 

তাকে বহনকরা প্রাইভেট কার সেখানে দুদফায় তাকে নেওয়ার জন্য আসতে গেলে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা গাড়ি ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে দুপুরে মাহমুদুর রহমান ফেসবুক লাইভে এসে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সরকারের কড়া সমালোচনা করে প্রায় ৪ মিনিট বক্তব্য প্রদান করেন। 

বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক এম,এম মোর্শেদ’র এজালাস কক্ষ থেকে সাদা রঙের প্রাইভেট কার নিয়ে জজ আদালত চত্বর থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় সেখানে ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীদের হামলার মুখে পড়েন মাহমুদুর রহমান। 

হামলাকারীরা ইট,পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠি সোটা নিয়ে হামলা চালায়। এসময় প্রাণ বাঁচাতে মাহমুদুর রহমান গাড়ি থেকে নেমে কুষ্টিয়া জজ কোর্টের পিপি কুষ্টিয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সামস তানিম মুক্তির চেম্বারে ঢুকে পড়লে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কমীরা সেখানেও হামলা চালায় এবং এ্যাডভোকেট মুক্তির কক্ষও ভাংচুর করে। ডান কানের নিচ দিয়ে এবং মুখের চোয়াল বেয়ে রক্ত গড়িয়ে মাহামুদুর রহমানের জামা ভিজে যায়। 

পরে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় মাহমুদুর রহমানকে উদ্ধার করে একটি এ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়। 

গত বছরের ১লা ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল আয়োজিত আলোচনা সভায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বঙ্গবন্ধু তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা ও নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকীকে নিয়ে কটুক্তি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে ইউটিউবে দেখে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।